জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে সরকার ‘লুকোচুরি’ করছে অভিযোগ তুলে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার কেন সবাইকে নিয়ে বসছে না? বাস্তব অবস্থা কেন তুলে ধরছে না?
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক ‘দায়িত্বশীল সমাবেশে’ তিনি এই প্রশ্ন তোলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, জ্বালানি সমস্যা থেকে উত্তরণে তারা সরকারকে সহযোগিতা করতে চান, কিন্তু সরকার দাবি করছে কোনো সঙ্কট নেই। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা এমনভাবে বলছে যেন তেলের সঙ্কট তো নেই-ই, বরং অতিরিক্ত তেলে ভাসছে দেশ।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, দেশে এখন কোনো ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী নেই, কিন্তু তারপরও জনমনে স্বস্তি নেই। বিশেষ করে সন্তানদের লেখাপড়া বর্তমানে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ একটি সংক্রামক রোগ, এই সংক্রমণ আমরা সরকারে ইতিমধ্যে লক্ষ করছি।
সংবিধান প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার হাতেই এদেশে প্রথম গণভোট হয়েছিল, তাহলে এখন এটাকে অসাংবিধানিক বলা হচ্ছে কেন? তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই সংবিধান বারবার সংশোধন হওয়ার পরও বারবার কেন ফ্যাসিবাদ আসলো? তাই জামায়াত এখন সংবিধানের কেবল সংশোধন নয়, বরং আমূল ‘সংস্কার’ চায়।
রাজনৈতিক লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আগেও কোনো অন্যায়কে সমর্থন করি নাই, এখনও কোনো কম্প্রোমাইজ করবো না। অতীতে যেভাবে লড়াই করেছি, আগামীতেও এ লড়াই চলবে।
শিক্ষার্থীদের হোম ক্লাস নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, শিশুরা ডিভাইসে আসক্ত। এরপর এখন আবার হোমক্লাস নামে ডিভাইস ধরিয়ে দিলে আরও বেশি আসক্ত হয়ে যাবে। হোমক্লাসে মেধার অপমৃত্যু ঘটবে।
তিনি ঘোষণা দেন, শনিবার (৪ এপ্রিল) থেকে জামায়াতের মাঠের কর্মসূচি শুরু হচ্ছে এবং আগামী দিনের এই আন্দোলন হবে ‘ইস্পাত কঠিন’। তবে বৈশ্বিক এই সঙ্কটে সরকার যদি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার উদ্যোগ নেয়, তবে তাকে স্বাগত জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশে ঢাকা জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।