নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)। দলটিতে যোগ দিচ্ছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, এবি পার্টি এবং আপ বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির প্রধান কার্যালয়ে এক জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকের এই দিনটি আমাদের জন্য ঐতিহাসিক। জুলাই অভ্যুত্থানে আমরা যারা রাজপথে একত্রিত ছিলাম, আজ সাংগঠনিকভাবে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছি। যারা আজ যোগ দিচ্ছেন, তারা আমাদের থেকে আলাদা ছিলেন না; বরং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে থেকে একই লক্ষ্যে কাজ করেছেন।
তরুণদের রাজনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, পুরনো রাজনীতিতে দেশ টলছে, পুরনো কায়দায় দেশ চলছে। বিএনপি সব নষ্ট করে দিচ্ছে। তরুণদের শক্তিকে শক্তিশালী করা ছাড়া বাংলাদেশে এখন আর বিকল্প নেই। যারা রাজনীতি করতে চান এবং জুলাই অভ্যুত্থানে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের সবাইকে এনসিপিতে যোগ দেওয়ার আহবান জানাই।
দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রিফাত রশিদ এবং আপ বাংলাদেশের শীর্ষ নেতা আলী হাসান জুনায়েদসহ বেশ কয়েকজন নেতা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হচ্ছেন। বিকেলে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত পদবি ও তালিকা জানিয়ে দেওয়া হবে।
নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করেন, এনসিপিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কারও সাবেক পরিচয় মুখ্য নয়। তবে কোনো গণহত্যায় সমর্থনকারী ও দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি এখানে যোগ দিতে পারবে না।
সাংবাদিক সম্মেলনে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের সঙ্কট নিয়ে সরকার শুরু থেকেই নাটক করেছে। একটি কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এটি পরিকল্পিতভাবে সিন্ডিকেটরা করেছে এবং সরকার এর অংশ হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিকভাবেও সফল নয়, যা ইরানের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে। গণভোটকে অস্বীকার করে রাজনৈতিক সমঝোতা নষ্ট করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।