ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেছে সরকারি ও বিরোধী দল। এই তালিকায় অনেক তরুণ নারী নেতৃত্বের আগমন ঘটলেও, সংরক্ষিত আসনের এমপি হওয়ার প্রস্তাব সবিনয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন ঢাকা-৯ আসনের সাবেক স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বিষয়টি সামনে আনেন। তবে ঠিক কোন দল থেকে তাকে এই প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, তা তিনি খোলসা করেননি।
ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, আজ ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ঘোষণা হয়েছে। আমি সংসদে থাকছি না দেখে অনেকেই সহানুভূতি জানাচ্ছেন, আপনাদের এই ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তবে সত্য হলো, সংরক্ষিত আসনে যাওয়ার প্রস্তাব আমাকে দেয়া হয়েছিল এবং আমি কৃতজ্ঞতার সাথেই তা ফিরিয়ে দিয়েছি।
জনস্বার্থ রক্ষায় সংসদে যাওয়ার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়া তার জন্য সহজ ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি ঐকমত্য কমিশনে বলেছিলাম, সংরক্ষিত নারী আসনগুলো দলীয় মনোনয়নে নয়, বরং জনগণের সরাসরি ভোটে পূরণ হওয়া উচিত। এই দাবির পক্ষে আমি যুক্তি দিয়েছি, ক্যাম্পেইন করেছি এবং আপনাদের স্বাক্ষরও সংগ্রহ করেছি। এখন এমপি হওয়ার প্রস্তাব পাওয়ার পর নিজের নীতি বিসর্জন দিয়ে ভিন্ন অবস্থান নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। যারা আজ সংসদে যাচ্ছেন, তাদের যোগ্যতা নিয়ে আমার কোনো প্রশ্ন নেই; আমি তাদের সফলতা কামনা করি।
সিস্টেম বা নির্বাচন কাঠামোর সমালোচনা করে ডা. জারা বলেন, যিনি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন, তিনি ভোটারদের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন এবং প্রয়োজনে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও কথা বলতে পারেন। কিন্তু দলীয় মনোনয়নে যারা যান, তাদের কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা বা ভোটার থাকে না। এটি কোনো ব্যক্তির সততার প্রশ্ন নয়, বরং কাঠামোগত দুর্বলতার বিষয়। বাংলাদেশে জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী, তাই তাদের প্রতিনিধিত্ব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হওয়া উচিত। সংরক্ষিত আসন যদি রাখতেই হয়, তবে সেগুলোও জনগণের ভোটে নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন।
নিজের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আমি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলাম। মাত্র ১৯ দিনের প্রচারণায়, কোনো পোস্টার বা মিছিল ছাড়াই ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছিলেন। নির্বাচনের দিনের অনিয়মের সব প্রমাণ আমাদের কাছে আছে, তবুও আমরা ফলাফল মেনে নিয়েছি। আমি যদি কখনো সংসদে যাই, তবে আপনাদের ভোটেই যাব। সংসদের বাইরে থেকেও সমাজের জন্য কাজ করা সম্ভব এবং আমি সেটাই চালিয়ে যাব।"
উল্লেখ্য, ডা. তাসনিম জারা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার এনসিপির হয়ে লড়ার কথা থাকলেও, দলটি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোটে যুক্ত হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি, যেখানে বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করেন।