পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় একটি মাছের ঘেরের লিজ ও দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা জানান, পাঁচ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হাতছাড়া হওয়া ঘেরের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়াকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধের সূত্রপাত।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাদারবুনিয়া চরে এ সংঘর্ষে এক নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষে জমির মালিকানা দাবি করা পক্ষের শাহ জামাল (৪৫), শেফালী বেগম (৩০), রাজ্জাক শিকদার (৬৫), রহিম খান (৫৫) ও ওহাব মাতুব্বর (৫০) আহত হন। লিজগ্রহীতা পক্ষের আহতরা হলেন—রত্তন হাওলাদার (৫৫) ও মোখলেছুর রহমান (৪৫)।
আহতদের মধ্যে শাহ জামাল, শেফালী, রাজ্জাক ও রহিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিক্যার কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাঙ্গাবালী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মু. সাইদুজ্জামান মামুন খানের বাবা আলম খান মাদারবুনিয়া চরের ওই ঘেরটি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ভোগদখলে রেখেছিলেন। তবে গত পাঁচ আগস্টের পর স্থানীয় একটি পক্ষ জমির মালিকানা দাবি করে ঘেরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
এরই মধ্যে প্রায় দুই মাস আগে আলম খান ঘেরটি এক বছরের জন্য কাজীর হাওলা গ্রামের রত্তন হাওলাদারসহ চারজনের কাছে লিজ দেন। লিজগ্রহীতারা গত ১৯ এপ্রিল আদালতে মামলা করেন এবং মঙ্গলবার দুপুরে ঘেরটি দখলে নিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
জমির মালিকানা দাবি করা ওহাব মাতুব্বরের অভিযোগ, ২০ একরের এই ঘেরে আলম খানের জমি দেড় একরেরও কম। গত ১৭ বছর আমরা বঞ্চিত ছিলাম। পাঁচ আগস্টের পর আমরা জমি বুঝে নিয়েছি। কিন্তু আজ মোখলেছুর রহমান ও শুকুর ফরাজীর নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর এবং বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে লিজগ্রহীতা রত্তন হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা আড়াই লাখ টাকায় ঘেরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেছি। কিন্তু প্রতিপক্ষ জোর করে আমাদের মাছ ধরে নিয়ে গেছে। আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় সেখানে গেলে তারা উল্টো আমাদের ওপর হামলা করে।
রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জসিম উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহতরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
