উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, সীমান্ত হত্যা ও কথিত পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় জোট।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এই সমাবেশে জোটের শীর্ষ নেতারা জানান, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আর বিলম্ব না করে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর বন্যা, খরা ও ভাঙনে প্রতিবছর লাখো মানুষের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে মুক্তি দিতে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এদিন দুপুর দুইটার পর থেকেই রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন হাজারো নেতা-কর্মী। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো মাঠ নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সমাবেশে বলেন, বৈষম্য ও দুর্নীতিনির্ভর রাজনীতি থেকে দেশকে মুক্ত করতেই ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলন হয়েছিলো।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গণভোটের প্রতিশ্রুতি এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি এবং এবারের বাজেটেও তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। একই সঙ্গে সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতা ও কথিত পুশইনের তীব্র সমালোচনা করে আগামী দিনে একটি অবাধ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের দাবি জানান তিনি।
আমির জামায়াত বলেন, জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি, লড়াই আমরা করে যাবো, গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করবো, ইনশাআল্লাহ। এর থেকে এক চুল পরিমাণও আমরা সরবো না।
জাগপার চেয়ারম্যান রাশেদ প্রধান বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, সেখানে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। রংপুর অঞ্চল নিয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, উত্তরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে তিস্তা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকারও সমালোচনা করেন।
সমাবেশে বক্তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান। সমাবেশ শেষে জোটের নেতারা ঘোষণা দেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ এই চার দফা দাবি আদায়ে ঢাকাসহ সারাদেশে তাদের ধারাবাহিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।