একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বা নীতিনির্ধারকের দায়িত্বে থাকলেও সেই দলে যোগ না দিলে পরবর্তীতে ইতিহাস থেকে নাম মুছে ফেলা হয় বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। এমনকি ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো চরম পক্ষপাতিত্ব ও স্বার্থপরতার আশ্রয় নেয় বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
বুধবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ পোস্টে মাহফুজ আলম এসব কথা লেখেন।
আজকের দিনটির গুরুত্ব উল্লেখ করে পোস্টের শুরুতেই মাহফুজ আলম লেখেন, ‘মুক্তির দিনে এসে এসব বেমানান, তবু জানিয়ে যাই- ইতিহাস এক মাছের পুকুর কিংবা বাজার।
ইতিহাসকে ‘মাৎস্যন্যায’ (সবল কর্তৃক দুর্বলকে গিলে খাওয়ার নীতি)-এর সঙ্গে তুলনা করে তিনি উল্লেখ করেন, শক্তিশালী মাছ যেমন ছোট বা মাঝারি মাছকে গিলে খায়, রাজনীতির ইতিহাসেও ঠিক তা-ই ঘটে। বিগত দুই বছরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, এই প্রবণতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে এবং নির্দিষ্ট সময় এলে অন্যদের আর সেখানে কোনো অস্তিত্ব রাখা হবে না।
মাহফুজ আলমের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কোনো আদর্শিক গ্রুপের সামান্য বিরোধিতা করলেও ব্যক্তিটিকে ইতিহাস থেকে সম্পূর্ণরূপে গায়েব করে দেওয়া হয়। এমন এক আবহ তৈরি করা হয় যেন সেই ব্যক্তির কোনো অস্তিত্বই ছিল না। আর যদি তাঁর নাম রাখা-ও হয়, তবে তা কেবল ‘গাদ্দার’ বা বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য।
অন্যদিকে, সেই আদর্শিক গ্রুপের সঙ্গে আপস বা তাল মিলিয়ে চললে সাধারণ অবস্থানের মানুষকেও ইতিহাসের প্রধান দু-চারটি অন্যতম সেরা চরিত্রে রূপ দেয়া কোনো বিষয়ই নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর এমন আচরণের কঠোর সমালোচনা করে মাহফুজ আলম লেখেন, একটি দলে যদি আপনি আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ না দেন, তবে ওই দলের অনুসারীরা আপনার নাম উচ্চারণ করাও বন্ধ করে দেবে। বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক, কারণ দলটি গড়ে তোলার পেছনে হয়তো আপনি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কিংবা শীর্ষ নীতিনির্ধারক ছিলেন।
একইভাবে, কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইভেন্ট বা আন্দোলনের পেছনে সব সিদ্ধান্ত গ্রহণে আপনার কেন্দ্রীয় ভূমিকা থাকলেও দলের তৈরি কোনো নথিপত্র বা ইতিহাসের পাতায় আপনার স্থান হবে না। যদি কোনো কারণে নাম নেওয়া-ও হয়, তা নেওয়া হবে কেবল কোনো ব্যর্থতার দায় বা দোষ চাপানোর জন্য।
পোস্টের শেষাংশে ক্ষমতার সঙ্গে ইতিহাস লেখার সরাসরি সম্পর্কের কথা তুলে ধরে সাবেক এই উপদেষ্টা লেখেন, ‘যার হাতে ক্ষমতা, সে-ই ইতিহাস লিখবে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, ক্ষমতা অর্জনের জন্যই রাজনৈতিক দল বা আদর্শিক গোষ্ঠীগুলোর ইতিহাসের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন হয়। তাই ক্ষমতায় বসার পর তারা নিজেদের সুবিধামতো কার নাম ইতিহাসে রাখবে আর কাকে বাদ দেবে, তা খুবই স্পষ্ট। দল বা দলের অনুসারীরা অভিযোগ করলেও দিনশেষে ক্ষমতার বলয়ে থাকা শক্তিই নিজেদের মতো করে ইতিহাস পুনর্নির্মাণ করে।