জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর যোদ্ধাদের উপযুক্ত সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অপকর্মের জন্য অনুশোচনা না করে আওয়ামী লীগ যদি আবারও দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে তাদের রাজপথেই কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা এবং জুলাইয়ের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সংবর্ধনা নিতে এসে শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা তাঁদের রক্তঝরা অনুভূতি ও অপূর্ণতার বেদনা প্রকাশ করতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই শহীদ আবু সাঈদ ও আন্দোলনকালের সঠিক চিত্র যথাযথভাবে উঠে না আসায় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে দেওয়া বক্তব্যে সেদিনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও প্রামাণ্যচিত্রের ঘাটতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। বিশেষ করে শহীদ আবু সাঈদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ফুটেজ না থাকায় তিনি আয়োজকদের সমালোচনা করে বলেন, ঐতিহাসিক এই গণআন্দোলনের সঠিক চিত্র সঠিকভাবে তুলে ধরা উচিত ছিলো।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস জাতির জন্য এক পরম গৌরবের ইতিহাস। এই গণঅভ্যুত্থান আমাদের রাষ্ট্র সংস্কারের ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে। জুলাই যোদ্ধাদের প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করা এই সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। সীমিত সম্পদের এই গরীব দেশে তাদের কল্যাণে যা কিছু করা সম্ভব, সরকার তা করবে। জুলাই যোদ্ধাদের যদি পাওনা সম্মানের জন্য নেতা বা মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, তবে তা পুরো জাতির জন্যই চরম লজ্জার।
বিতাড়িত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতো নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের পরও আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে ন্যূনতম অনুশোচনা দেখা যাচ্ছে না। তারা যদি আবারও জল ঘোলা করে বিশৃঙ্খলা তৈরির দুঃসাহস দেখায়, দেশের আপামর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথেই তাদের মোকাবেলা করা হবে।
গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল দেশে সুস্থ ও নিরাপদ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ দেশবাসীকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে। আসুন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে বুকে ধারণ করে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে যাই।
