পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এ মাহফিলে দলটির শীর্ষ নেতারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে অগ্রসর হলেই দেশে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।
দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এক স্বৈরাচারী ও পরাজিত শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটেছে। জনগণ এখন যে সরকার গঠন করেছে, সেই সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সামগ্রিক অবস্থা খুব খারাপ না হলেও এখান থেকে দ্রুত উত্তরণ প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি দাবি করেন, সরকারের প্রথম ছয় মাসে পুলিশের হারিয়ে যাওয়া মনোবল অনেকটাই ফিরে এসেছে। রংপুর নগরীতে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করায় তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
রিজভী উল্লেখ করেন, দ্রুত আসামি শনাক্ত করা না গেলে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতো। তবে শুধু গ্রেপ্তার নয়, দ্রুত বিচারের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং জনগণের মৌলিক অধিকার ও আইনি শাসন নিশ্চিত করার আহবান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ইসলামের সুমহান পথে পরিচালিত হলেই সমাজে প্রকৃত বিচার ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, অত্যন্ত ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল একটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। সেই পরিস্থিতি মেনে নিয়েই সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয়তার চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎক্ষণাৎ তৎপর হয়নি। রংপুর কিংবা রামিসা হত্যার মতো আলোচিত ঘটনাগুলোর রহস্য অত্যন্ত অল্প সময়ে উন্মোচিত ও আসামি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। রাতারাতি রাত-দিনের পরিবর্তন সম্ভব না হলেও খুব দ্রুতই ভঙ্গুর অবস্থা কাটিয়ে পুলিশ ও অন্য বাহিনীকে পুরোপুরি জনবান্ধব বাহিনীতে রূপান্তর করা হবে। দুষ্টের দমন ও শান্তির পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
দোয়া মাহফিলে বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।