ঢাবিতে হামলা ও জুলাই হত্যা: আট আসামির সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার

চব্বিশের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও এর আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থী ও জনতার ওপর হামলা, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল, অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।  

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই অভিযোগপত্র আমলে নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্টারের কাছে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগ জমা দেয়।  

অভিযোগে সাজাহান, খালেদ হাসান সাইফুল্লাহ, সাইফুল ইসলাম শোভন, আব্দুল ওয়াদুদ ও শাওন সিকদারসহ একাধিক ব্যক্তিকে হত্যা এবং অন্তত ৩০০ জন শিক্ষার্থী ও পথচারীকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদ কামালের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে ক্যাম্পাসে পুলিশ ও ছাত্রলীগ প্রবেশ করানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং উসকানিমূলক নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশিষ্ট লেখক ও সাবেক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ তকমা দিয়ে উসকানিমূলক নিবন্ধ লেখা ও সামাজিক মাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে সহিংসতায় ইন্ধন জোগানোর অভিযোগ আনা হয়।  

এছাড়া, ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সরাসরি হামলা ও সহিংসতা পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটররা জানান, তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানি, হামলা ও নির্যাতনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিলে আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে।