ঢাকার দুই মেয়র প্রার্থীকে পরিচয় করালেন জামায়াত আমির

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে প্রথমবারের মতো নিজেদের মেয়রপ্রার্থী নামিয়ে রাজনীতির মাঠে বড় চমক দিলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার সকালে মগবাজারের মধুবাগ মাঠে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ পালনের শুভ উদ্বোধনকালে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) দলের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। সেলিম উদ্দিন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির, আর তরুণ নেতা সাদিক কায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি)।

ডিএনসিসি প্রার্থী সেলিম উদ্দিনের সাম্প্রতিক খাল পরিষ্কার ও আবর্জনা অপসারণের প্রশংসার পাশাপাশি ডিএসসিসি প্রার্থী সাদিক কায়েমকে নিয়ে জামায়াত আমির প্রত্যয় প্রকাশ করে বলেন, সাদিক কায়েম কী জিনিস তা দেশের মানুষ চিনে ফেলেছে। ডাকসু যেভাবে মনের মতো করে সাজিয়েছিল, ঢাকা দক্ষিণকেও সে একইভাবে সাজাবে।

একই সঙ্গে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার হুঙ্কার দিয়ে তিনি বলেন, সরকারকে আমরা ঘুমাতে দিব না। সরকারের কাজ ঘুমানো নয়; জনগণ শান্তিতে ঘুমাবে আর সরকার পাহারা দেবে। হামে শিশু মৃত্যু ও বিমান বন্দরের দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাত মাসের ব্যর্থতার দায় সরকারকে স্বীকার করে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মিরপুরের ঐতিহাসিক মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি কেন্দ্র ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা নিয়ে মারাত্মক অভিযোগ তোলেন জামায়াত প্রধান।

তিনি বলেন, রাতের অন্ধকারে রাড্ডা সেন্টার ভেঙে চুরমার করার পেছনে জনপ্রতিনিধিরা পেছনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জনগণের চোখে ধুলো দিতেই এক নারী সংসদ সদস্যকে দিয়ে পদত্যাগের নাটক করানো হলেও তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি আরও জানান, রাড্ডা সেন্টারে জামায়াত অনুদান দিতে চাইলেও সরকারের টালবাহানার কারণে সেবা বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।