বর্তমান সরকারের অদক্ষতা ও ব্যর্থতার কারণে দেশে তীব্র অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন সংকটের ক্ষেত্রে যেভাবে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে, তা জাতির কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ছয় মাস সরকারের জন্য বেশি সময় নয় কিন্তু বিকল্প পরিকল্পনা ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে অপেক্ষা করার সুযোগও বেশি নেই।
রোববার ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সরকারের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুরের উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর ছয় মাস অতিবাহিত হলেও সংকট মোকাবিলায় তাদের কোনো কার্যকর বিকল্প পরিকল্পনা নেই। বিশেষ করে গণভোটের রায় ও সাংবিধানিক সংস্কারের প্রশ্নে সরকার শুরু থেকেই জনগণের অভিপ্রায়কে অবজ্ঞা করে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হেনেছে। গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পড়া সত্ত্বেও সরকার সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ প্রত্যাখ্যান করে গণরায়ের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের জ্বালানি, গ্যাস ও নিত্যপণ্যের সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়:
জ্বালানি ও গ্যাস সংকট: পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও তেল সংকটের কারণে পরিবহন ও কৃষি খাত চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২ বছরের মধ্যে জ্বালানির দাম না বাড়ানোর অঙ্গীকার থাকা সত্ত্বেও সরকার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে ১২০০ বেকারি এবং প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা অর্থনীতিকে ধসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি: দেশে একের পর এক লোমহর্ষক গুম, খুন ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে। ইতোমধ্যে ৫১৮টি শিশু অপহরণের মামলা রেকর্ড হয়েছে। রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা, স্কুল কমিটি দখলকে কেন্দ্র করে খুন এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটছে।
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি: বর্তমান শাসন আমলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বিগত ফ্যাসিস্ট আমলকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এই বাস্তবতায় সংসদে বিরোধী দলের উত্থাপিত ১০টি প্রস্তাব সরকার সম্পূর্ণ উপেক্ষা করায় ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চট্টগ্রামে প্রথম লংমার্চের পর ১৯ সেপ্টেম্বর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে দ্বিতীয় লংমার্চ শুরু হবে। লংমার্চটি গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা হয়ে ৫টি পথসভা শেষে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে গিয়ে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে।
দুর্নীতি, দখলদারিত্ব, দলীয়করণ বন্ধ এবং বিচার দৃশ্যমান করার দাবিতে তাদের আগের ৬ দফা দাবিকে এখন ৭ দফায় রূপান্তর করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পাকিস্তানের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের আহবান রাষ্ট্রপতির
গ্যাসক্ষেত্রের সম্প্রসারণ-খোঁজে গতি চায় সরকার ও শেভরন