যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হেনস্তা এবং আক্রমণাত্মক স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র এবং সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সাজীব ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার এক ফেসবুক বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণহত্যার বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ভয় থেকেই প্রবাসে বসে এসব অপপ্রচার, উসকানি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত দলটি।
আসিফ মাহমুদ উল্লেখ করেন, হুইলচেয়ারে থাকা একজন প্রবীণ ব্যক্তিত্বকে ঘিরে ধরে তাঁর চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা এবং তাণ্ডবমূলক স্লোগান দেয়া সব রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও মানবিক মর্যাদার সীমা লঙ্ঘন করে। তিনি বলেন, এটি আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের অসহিষ্ণু ও সংঘাতময় রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রতিরোধের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে দলটি ও তাদের দোসররা দেশে-বিদেশে জুলাইয়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ইতিপূর্বে জেনেভা, লন্ডন এবং সম্প্রতি নিউ ইয়র্কের ঘটনাগুলো সেই একই ষড়যন্ত্রের অংশ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, নিউ ইয়র্কের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে অবিলম্বে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করতে হবে। একই সাথে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যেন কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সে বিষয়ে আমেরিকান প্রশাসনের সহযোগিতা চাইতে হবে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সরকার কেবল নিন্দাজ্ঞাপন বা বিবৃতি দিয়েই নিজের দায়িত্ব শেষ করতে পারে না; বরং প্রবাসে আত্মগোপনে থাকা জুলাই গণহত্যার শীর্ষ আসামি ও আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা, আইনি সহযোগিতা ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রকে এখন দৃশ্যমান কূটনৈতিক তৎপরতা ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান তিনি।