মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের প্রকাশিত ঐতিহাসিক ছবি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির রেশ এবার পৌঁছাল রাজনৈতিক অঙ্গনে। ছবিটি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও পোস্ট দিয়ে ফেসবুকে হইচই ফেলে দেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অবশেষে তার আগের পোস্টটি মুছে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ফ্যাক্টচেকারদের অনুসন্ধান ও সত্য উন্মোচিত হওয়ার পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে স্পষ্ট ভাষায় ইউ-টার্ন নিলেন এই তরুণ রাজনৈতিক নেতা।
ঘটনার সূত্রপাত নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সময়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত সংবর্ধনা ও নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের অংশ নেওয়ার একটি আবেগঘন ছবি শনিবার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
কিন্তু ছবিটি প্রকাশের পর আসিফ মাহমুদ কসোভোর প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তির একটি সম্পাদিত (এডিটেড) মিমে ট্রাম্পকে ‘কার্ডবোর্ড কাটআউট’ হিসেবে উপস্থাপনের ছবি শেয়ার করে প্রশ্ন তোলেন, ছবিটি আসল নাকি ভুয়া এবং ফ্যাক্টচেকারদের ভূমিকা কী। ফলে নেটিজেনদের মধ্যে নতুন করে বিভ্রান্তি চাড়িয়ে ওঠে।
তবে আসিফ মাহমুদের সেই সংশয় ধরে টেকেনি বেশি সময়। রোমানিয়ার খ্যাতনামা গণমাধ্যমের ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে আসল সত্য। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, কসোভোর প্রধানমন্ত্রীর যে ছবিতে ট্রাম্পকে কার্ডবোর্ড কাটআউট হিসেবে দেখানো হয়েছিল, তা মোটেও মূল ছবি ছিল না; বরং সেটি ছিল ইন্টারনেট দুনিয়ায় ঘুরতে থাকা একটি রসিকতামূলক ‘মিম’। মূল ছবিতে কসোভোর প্রধানমন্ত্রীর পাশে স্বশরীরে ও বাস্তব অবস্থাতেই উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অর্থাৎ, মিম ও সম্পাদিত ছবিকে ভিত্তি ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসল ছবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াসটি ছিল পুরোপুরি ভুল ধারণানির্ভর।
আন্তর্জাতিক ফ্যাক্টচেকার ও গণমাধ্যমে সত্য তথ্য পরিষ্কার হওয়ার পরই আসিফ মাহমুদ নিজের ভুল বুঝতে পেরে বিভ্রান্তিকর পোস্টটি সরিয়ে নেন। পরবর্তীতে দেওয়া এক নতুন পোস্টে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে লেখেন, "একই রকম পোজ নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, সেটার কারণে আমি নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম কোন ছবিটা আসল। এখন বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ায়, আমি আমার আগের পোস্টটি মুছে দিয়েছি।" চরম উত্তেজনার পর ছবিটির সত্যতা প্রমাণিত হওয়া এবং এনসিপি নেতার এই পিছু হটার ঘটনা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।
