কানেক্টিভিটির নামে দেশ ইজারা দেওয়া চলবে না: শফিকুর রহমান

কানেক্টিভিটির নামে অন্য দেশের কাছে দেশ ইজারা দেওয়া চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে পুরো জাতিকে হতাশ করেছে এবং তাদের সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রতারণা করেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চ-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া অভিমুখে এই লংমার্চ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তিগত দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি, সমস্ত দাবিই জনগণের দাবি। বিএনপি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি, এমনকি পতিত স্বৈরাচার থেকেও তারা কিছু শেখেনি। তারা জনগণের গণরায়কে উপেক্ষা করছে। তবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

সরকারপ্রধানের সাম্প্রতিক সফর ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী জাপানে গিয়েছিলেন, কী জন্য গিয়েছিলেন তা স্পষ্ট নয়। সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে কি না, তাও জাতির কাছে অস্পষ্ট। বিএনপি সরকারপ্রধান সফর শেষে কী করে এসেছেন, তা জাতির কাছে পরিষ্কার করতে হবে।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের দেওয়া ৭০ শতাংশের বেশি ভোটের রায়কে আমরা অপমানিত হতে দেবো না, যেকোনো মূল্যে তা আদায় করে ছাড়বো। আগামী ৯ তারিখ সংসদ অধিবেশন বসার আগেই সিদ্ধান্ত নিন যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করবেন। অন্যথায় আন্দোলন চলবে।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের জন্য বৃহত্তর ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সরকারের ভুল নীতির কারণে ‘আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লংমার্চের সূচনা পর্বে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন এবং সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।

লংমার্চের সাত দফা দাবিড়গুলোর মধ্যে রয়েছে- ১. গণভোটের গণরায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা, ২. জুলাই গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত সকলের বিচার নিশ্চিত করা, ৩. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির ঊর্ধ্বমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা, ৪. বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সঙ্কট নিরসন করা, ৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটানো, ৬. প্রশাসনে সঙ্কীর্ণ দলীয়করণ বিলোপ করা, ৭. দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি চিরতরে বন্ধ করা।

সমাবেশ শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে লংমার্চ শুরু করেন।