ক্ষমতায় আসার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভারতের সঙ্গে গোপন লিয়াজোঁ ও তোষণনীতি শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শুক্রবার ঝিনাইদহ পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে স্থানীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন অভিযোগ করে বলেন, অতীতে যেমন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ভারতকে তোষণ করত, বর্তমানে জামায়াতও ঠিক একই পথ অনুসরণ করছে। তিনি দাবি করেন, দলটির শীর্ষ নেতারা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপনে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন, যা দেশের সাধারণ জনগণ একেবারেই ভালোভাবে মেনে নিচ্ছে না। জামায়াতের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত যদি দাবি করে যে এ ধরনের কোনো গোপন বৈঠক হয়নি, তবে তারা যেন আমার এই উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সত্য তুলে ধরে।
জামায়াতের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচির কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, লংমার্চটি ঢাকা থেকে শুরু হয়ে গোপালগঞ্জ হয়ে খুলনায় প্রবেশ করবে এবং পরবর্তীতে যশোর-ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে জামায়াত নেতারা সংবাদ সম্মেলনে জানান, তারা গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা করবেন না। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগের ভয়ে সেখানে পথসভা না করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জামায়াতে ইসলামীকে বলব, গোপালগঞ্জে পথসভা করেই আপনারা আপনাদের নৈতিকতার ও সাহসিকতার পরীক্ষাটি দিয়ে দিন।
জামায়াত নেতাদের দ্বিচারিতার কঠোর সমালোচনা করে তিনি আরও যোগ করেন, তারা দিনে জনসমক্ষে ভারতের বিরুদ্ধে গরম বক্তব্য দেয়, আর রাতের আঁধারে সেই দেশেরই গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে। এটিকে কোনোভাবেই আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতি বলা চলে না।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেন, এই নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে সাধারণ মানুষ এখন অনেক সচেতন। জামায়াতের দেওয়া রাজনৈতিক কিংবা ‘জান্নাতের টিকিটের’ ধর্মীয় বিভ্রান্তিকর প্রচেষ্টাকে ওই এলাকার জনগণ ভোটের মাধ্যমে লাল কার্ড দেখিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
