ডট বলের খতিয়ান ভারী করেই ডুবে গেছে টিম টাইগার্স। বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে এমন ম্যাচও গেছে, যেখানে ১২০ বলের অর্ধেকটাতেই রান আসেনি। আর এই ডটের খপ্পরে পড়ে কখনো স্কোর ৮৪, কখনও আবার ৭৩ হয়েছে।
পাওয়ার হিটিংয়ের খেলায় ডট বলের সংখ্যা বাড়ানো, ছোটোখাটো ভুল নয়। কখনও সেটা অন্যায়ের পর্যায়ে পড়ে।
আর ব্যাটের সেই পাওয়ার শূন্যতায় কেবল শূন্যই এসেছে বাংলার ঘরে। বাংলার কোনো ব্যাটসম্যানই পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই পারেননি ব্যাটটা ঠিকঠাক চালাতে।
সুপার টুয়েলভে যখন জ্বলে ওঠার কথা, তখনই নিভে যাওয়ার শুরু। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৭১ রানের টার্গেট তাও মেনে নেয়া গেছে।
তবে ডট বলের হারে তখনই সমর্থকদের বুক করেছে দুরুদুরু।ওই ম্যাচেও ৩৩টা বলে কোনো রান করতে পারেনি রিয়াদের দল।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডটের সংখ্যা দাঁড়ায় বায়ান্নতে। ১২০ বলের খেলায় প্রায় অর্ধেক বলই ডট। বাউন্ডারিও ছিল হাতে গোনা।
স্ট্রাইক রোটেট বলে যে একটা শব্দ আছে, সেটাই যেনো গেলো না শোনা। টার্গেটটাও তাই হয়ে গেল মামুলি। ১২৪ রানের টার্গেট টপকাতে তাই ইংলিশরা উইকেট দিলো মাত্র দুইটা।
আরও পড়ুন: স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে সেমির স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল ভারত
ক্যারিবিয়দের সাথে হাতের মুঠোয় ছিল যে ম্যাচটা, একটু ব্যাটটা চালাতে পারলেই যেখানে নিশ্চিত ছিল জয়, সেখানেও হতাশার সাগর নিয়ে হাজির রিয়াদের দল। এশিয়া কাপের দুই রানের হারের স্মৃতি জাগিয়ে এবারও মাহমুদুল্লাহর দলটা জিততে পারেনি।
প্রোটিয়াদের পেয়েও কাটলো না বেহাল দশা। ১২০ বলের ৫৯টা বলই ডট। ৮৪ রানের মামুলি টার্গেটে তাই ডোবানো গেলো না ডেভিড মালানদের ঘট।
সব হারানোর পরও আশা ছিলো, ছিল বিশ্বাস ঘরের কোণে। শেষটা হয়তো হবে ভালো, শেষ ভালো যার সব ভালো তার এই মন্ত্র আওড়ে শান্তি পাওয়া যাবে মনে।
কিন্তু সেখানেও নখদন্তহীন টাইগাররা। ৭৩ রানের দশ উইকেটের জলাঞ্জলি। মান সম্মান হারানোর পর মুখে যেটুকু অংশ ছিল খালি, সেখানে মাখলো চুন আর কালি।
ডট বলে ঘট ডোবানোর এই খেলাটা বন্ধ হবে কবে, কখন টাইগার দল ডটকে রান বানাতে শিখে যাবে, সেই প্রশ্নটা এবার থাক সময়ে কাছে।
একাত্তর/এসজে