গত শতাব্দির সেরা বলের মালিক শেন ওয়ার্ন

নিজের প্রথম অ্যাশেজ টেস্টে ১৯৯৩ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডের মাঠে নেমেছিলেন শেন ওয়ার্ন। আর প্রথম বলেই বাজিমাৎ করে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন ২৩ বছর বয়সী সেই তরুণ ক্রিকেটার। 

'গ্যাটিং বল' নামে খ্যাত তার সেই ডেলিভারি পরে পরিচিত হয় শতাব্দির সেরা বল হিসেবে। এক মুহূর্তে সুপারস্টারে পরিণত হন শেন, যিনি পরবর্তীতে সর্বকালের সেরা লেগ স্পিনারের খেতাব পান। 

এবছরের ২২ জানুয়ারি অ্যামাজন প্রাইমে মুক্তি পায় শেন ওয়ার্নের জীবন নিয়ে নির্মিত ডকুমেন্টারি 'শেন'। সেখানে নিজের সেই অসাধারণ কীর্তি নিয়ে কথা বলেন তিনি। 

আরও পড়ুন: ক্রিকেট কিংবদন্তী শেন ওয়ার্নের মৃত্যু

'ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়দের কথা চিন্তা করে আমার ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিলো সে রাতে', ডকুমেন্টারিতে বলেন তিনি। 

তবে সেই ম্যাচে অসাধারণ বোলিংয়ের সময় শেনের কৌশল ছিল খুবই সাধারণ। 

'আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল বলে যতটা সম্ভব স্পিন দেয়া, যাতে ইংলিশরা বুঝতে পারে যে এই ছেলে স্পিন বোলিং করতে পারে।' 


ওয়ার্নের লেগ স্টাম্পের অনেক বাইরে পড়া বলটা এক হাতের মতো টার্ন করে ভেঙে দেয় ব্যাটসম্যান মাইক গ্যাটিংয়ের অফ স্টাম্প। কী ঘটে গেল বুঝে উঠতে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন গ্যাটিং। 

'আমি বলটা ছেড়ে দিলাম, আর সবকিছু যেন স্লো মোশনে ঘটছিলো। গ্যাটিং চেষ্টা করেছিল বলটাকে টার্ন করানোর। কিন্তু সেটা ভেসে গিয়ে স্টাম্পগুলোকে আলতো করে ফেলে দিলো।' 

ওই ম্যাচের পর রাতারাতি বদলে যায় ওয়ার্নের জীবন। তবে হঠাৎ পাওয়া এই খ্যাতি তাকে বিড়ম্বনাও কম দেয়নি। 

২০২০ সালে ফক্স স্পোর্টসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওয়ার্ন বলেন, 'পরের দিনটি ছিল ভয়ানক। প্রায় প্রত্যেকটি গণমাধ্যমে খবর, 'শেন ওয়ার্ন পানশালায়'। 

'বিশেষ করে আমি কি পরেছিলাম তা নিয়ে প্রচণ্ড সমালোচনা হয়েছিল।  আরেকটি বিষয়ও ছড়িয়ে যায়, 'শেন ওয়ার্ন সম্পর্কে ১০টি জিনিস যা আপনি জানেন না।' আমাকেও সেই খবরটা পড়তে হয়েছিল। মনে হচ্ছিল আসলেও কি আমি আমার সম্পর্কে জানি না? অদ্ভুত!' 

তার সম্পর্কে অনেক মিথ্যে খবর গণমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছিল এমন অভিযোগ করে শেন সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, 'আমি যখন আমার সম্পর্কে জেনেছি, যেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা...সেগুলো আমি স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারিনি। তবে সেগুলো নিয়ে আমি খুব বেশি একটা মাথা ঘামাইনি। নিজেকে বুঝিয়েছিলাম, 'আমি তো এমন নই।' 

'তবে আমি এটা স্বীকার করে নিচ্ছি, আমি কিছুটা আগ্রাসী ছিলাম। সব সময়ই অন্যদের থেকে আলাদা ছিলাম। আমি যা করতে চেয়েছিলাম তা করেছি এবং এটি আমাকে কিছুটা সমস্যায় ফেলেছে।' 

উল্লেখ্য, অস্ট্রেলীয় সময় শনিবার (৫ মার্চ) হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এই কিংবদন্তী ক্রিকেটার। 


একাত্তর/এসজে