ডারবান টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার "দুঃখজনক" স্লেজিংয়ের বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলে (আইসিসি) একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবে বাংলাদেশ। মাঠে এসব অভিযোগের বিষয়ে আম্পায়ারদের জানানো হলেও তারা তা উপেক্ষা করেছেন।
তাই খেলা চলাকালীন স্লেজিং এবং সামগ্রিক আম্পায়ারিং উভয় বিষয়ে আইসিসির কাছে অভিযোগ দায়ের করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
ইএসপিএন (ক্রিকইনফো) সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওয়ানডে সিরিজের আম্পায়ারিং নিয়ে বাংলাদেশ এরইমধ্যে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। অন্যদিকে টেস্ট ম্যাচের সময়ও বেশ কিছু সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ, সেসব নিয়েও আলোচনা করা হবে।
ইএসপিএন (ক্রিকইনফো) -এর সাথে কথা বলার সময় বিসিবি ক্রিকেট অপারেশন্স প্রধান জালাল ইউনুস বলেছেন, আমরা ইতিমধ্যেই ওয়ানডে সিরিজের পরে আম্পায়ারিং নিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। ম্যাচ রেফারি প্রথমে আমাদের ম্যানেজার নাফিস ইকবালের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছিলেন, পরে আমরা লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি নরম কিছুটা নরম হন। এই টেস্ট ম্যাচ নিয়ে আমরা আরেকটি অফিসিয়াল অভিযোগ জানাবো।
ইউনুসের পাশাপাশি আম্পায়ারিংয়ের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন দলের পরিচালক খালেদ মাহমুদ, নির্বাচক হাবিবুল বাশার এবং সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হকও এ বিষয়ে একই কথা বলেছেন।
খেলার পর মুমিনুল বলেন, স্লেজিং খুবই স্বাভাবিক, কিন্তু আম্পায়াররা এটা খেয়াল করেননি। ম্যাচে আম্পায়ারিং আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়, তবে আমি মনে করি নিরপেক্ষ আম্পায়ার ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইসিসির ভাবা উচিত।
এর আগে রোববার ডারবান টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শেষে খালেদ মাহমুদ এবং হাবিবুল বাশার ম্যাচ কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেন।
ব্যক্তিগত কারণে আগেই সফর বাতিল করলেও সাকিব এক টুইট বার্তায় বলেন যে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিরপেক্ষ আম্পায়ারদের পুনর্বহালের দিকে নজর দেওয়া উচিত আইসিসির।
চতুর্থ দিনের খেলা শেষে তামিম ইকবালকেও আম্পায়ারদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে, তবে তারা কি নিয়ে কথা বলেছেন তা স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন: ২৬ এপ্রিল নয়, আগেই বন্ধ হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
দক্ষিণ-আফ্রিকা বাংলাদেশের এই টেস্টে মাঠের আম্পায়ার ছিলেন আইসিসির গত বছরের বর্ষসেরা আম্পায়ার ও তিনবারের বর্ষসেরা আম্পায়ার মারাইস ইরাসমাস। আর মারাইসের সঙ্গী হিসেবে ছিলেন এড্রিয়ান হোল্ডস্টক। দুজনই স্বাগতিক অর্থাৎ দক্ষিণ আফ্রিকার আম্পায়ার।
ম্যাচের চতুর্থ দিনে তাদের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বদলে গেছে রিভিউয়ে। অন্যদিকে 'আম্পায়ার্স কল' হয়ে টিকে গেছে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত। অনেকেই এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বিশেষ করে চতুর্থ দিনের আম্পায়ারিং সবচেয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বেশির ভাগ সিদ্ধান্ত গেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে।
একাত্তর/আরবিএস