সল্টলেকে মোহনবাগানকে হারাতেই মাঠে নামবে আবাহনী

দুই বাংলার দুই প্রাণের ক্লাবের লড়াই। এএফসি কাপের প্লে অফে মঙ্গলবার সল্টলেকে মুখোমুখি বাংলাদেশের আবাহনী ও ভারতের এটিকে মোহনবাগান। শক্তিসামর্থ্যে ভারতের ক্লাবটি থেকে পিছিয়ে থাকলেও প্লে-অফ বাঁধা উৎরাতে চায় আকাশী-নীল। 

এপার বাংলায় ফুটবলটা এখন আফসোসের, হতাশার। ওপার বাংলায় ফুটবলটাই এখনো জীবন। এপারে নেই আগের সেই উন্মাদনা, গ্যালারিতে থাকে না দর্শক। ওপারে ক্লাব প্রাঙ্গণেই পাগল সমর্থকদের ভিড় লেগে থাকে; উপচে পড়া দর্শক গ্যালারি জুড়ে।

দেশের ফুটবলের অতীতটা ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে বসুন্ধরা কিংস দিয়েছে নতুন লাইফলাইন। নিজস্ব মাঠ, ফ্যানবেইজ আর নামে-ভাড়ে বড় দল গড়ে ওরাই এখন বাংলার চ্যাম্পিয়ন। 

এএফসি কাপে সরাসরি গ্রুপ পর্বে খেলবে কিংস, ১৮ মে কলকাতায় শুরু আসর। তাদের সঙ্গী হতে প্লে অফ বাধা পেরুনোর অপেক্ষা আবাহনীর।

তিন সিজন আগে এই এএফসি কাপেই ইতিহাস গড়েছিলো আবাহনী। প্রথম বাংলাদেশি ক্লাব হিসেবে গ্রুপ পর্ব টপকে খেলেছিলো ইন্টার জোনাল সেমিফাইনালে। 

পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড মারিও লেমোসের শুরুর সেই দিনগুলো ছিলো স্বপ্নের মতো। এখন, ঘরোয়াতেই শ্রেষ্ঠত্ব হারানো আবাহনীর জন্য এএফসি কাপ তো এক কঠিন পরীক্ষা। 

আবাহনীর হেড কোচ মারিও লেমস বলেন, এএফসি কাপের সুখস্মৃতি আছে আমাদের। আবারো তেমন কিছু করার লক্ষ্য। দলে কিছু ইনজুরি আছে, তবে লিগের পারফর্মেন্স আমাদের আশাবাদী করছে। মোহনবাগান শক্ত প্রতিপক্ষ, তবে তাদেরকে হারানো অসম্ভব নয়।

দলের মূল ভরসা দানিয়েল কলিন্দ্রেস। এই কোস্টারিকানের ম্যাজিক্যাল টাচেই মোহনবাগান বাঁধা টপকানোর স্বপ্ন আবাহনীর। ইনজুরিতে দরিয়েলতনের সার্ভিস পাওয়া যাচ্ছে না। 

হাফ সিজনে আকাশী-নীল জার্সি উঠেছে বসনিয়ান স্ট্রাইকার নেদো তুর্কোভিচের গায়ে। স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘের হয়ে মৌসুম শুরু করে পেয়েছেন চার গোল। 

তুর্কোভিচ বলেন, বসনিয়ার ফ্লাগেও এই হলুদ-নীলের মিশ্রন আছে। তাই আবাহনীর জার্সি আমার এবং আমার বাবার খুবই প্রিয়। এই ক্লাবে আমি মনে রাখার মতো কিছু করতে চাই। এএফসি কাপে সেটা বড় সুযোগ।

এক সময়ে মোহনবাগানের সাথে সমানে-সমান লড়াই ছিলো আবাহনীর। হিসেব বদলেছে, সবশেষ পাঁচ বছর আগের দেখায় ৩-১ গোলে হেরে এসেছিলো বাংলার ক্লাবটি। এবার হিসেব বদলের সুযোগ সল্টলেকে।


একাত্তর/এআর