রুপনা ও ঋতুপর্ণার সফলতায় রাঙামাটিতে খুশির জোয়ার

দক্ষিণ এশিয়া শ্রেষ্ঠ গোলরক্ষক হওয়ায় রাঙামাটিতে রুপনা চাকমা ও ঋতুপর্ণা চাকমার বাড়িতে এখন উৎসবের আমেজ। আর খুশির জোয়ারে ভাসছে হ্রদ-পাহাড়ের জেলা রাঙামাটি।

এবারের দলে দেশের হয়ে খেলেছেন, জেলা দুই কৃতি খেলোয়ার রূপ্না চাকমা এবং ঋতুপর্ণা চাকমা। তাদের এই সাফল্য ছুঁয়ে গেছে গোটা জেলাকে।

এরইমধ্যে উৎসব করেই তাদের বরণ করতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। তাদের সম্মানিত করার পাশাপাশি পুরস্কার দেয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে সম্মানিত করার নেপথ্যের বীর সন্তানরা এখন আলোর মঞ্চে। তারা এসেছে দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাম থেকে।

সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই বদলে গেছে রাঙামাটির আবহ। নারী দলের সাফল্যে যখন গোটা দেশে বইছে আনন্দের ঢেউ, তখন পাহাড়েও অন্যরকম এক উৎসবের আবহ।

কারণ সেই নারী দলের পাঁচ সদস্য ঋতুপর্ণা চাকমা, আনাই মগিনি, মনিকা চাকমা, রুপনা চাকমা ও আনুচিং পার্বত্য চট্টগ্রামের মেয়ে। তাই এই জয় রাঙামাটিরও বিশাল এক জয়।

সেই দলের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা, অপরজন উইঙ্গার ঋতুপর্ণা চাকমা। রুপনার বাড়ি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ভূঁইয়াদাম গ্রামে।

আর বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের উইঙ্গার ঋতুপর্ণা চাকমার বাড়িও রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে মগাছড়ি গ্রামে। দুটো গ্রামই দুর্গম পাহাড়ি এলাকা।

দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা রুপনার ফুটবল জীবন খুব একটা সহজ ছিলো না। অনেক কষ্ট করে পরিবারের সমর্থনে পাহাড় থেকে উঠে দেশ জয় করেছেন।

এলাকার লোকজন বলছেন, তৃণমূলের অভাবী পরিবারের কিশোরীরাও যে সুযোগ পেলে মর্যাদা আনতে পারে সেটা দেখিয়ে দিয়েছে এই ফুটবলাররা।

ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের স্থানীয় আলো বিকাশ চাকমা বলেন, রুপনা আমাদের এলাকারই মেয়ে। ছোটবেলা থেকে তার ফুটবলের প্রতি আকর্ষণ। সে ছেলেদের সঙ্গে মিশে ফুটবল খেলতো

পনার মা কালাসোনা চাকমা বলেন, আমার মেয়ে যে আজ দেশ পেরিয়ে বিদেশে খেলতে গেছে আমার খুব ভালো লাগছে। আমি খুব খুশি। মেয়ের খেলা আমি মোবাইলে দেখেছি।

তিনি আরও বলেন, খেলা শেষে মেয়ে ভিডিও কলে আমাকে কাপ দেখিয়ে বলে মা অনেক কষ্টের বিনিময়ে এটা পেয়েছি। আমি যে কত খুশি তা বলে বুঝাতে পারবো না।

ঋতুপর্ণার মা বসুমতি চাকমা বলেন, আমি খুব খুশি হয়েছি। আমার মেয়ে দেশের জন্য ভালো খেলেছে তাতে আমিসহ গ্রামবাসী আনন্দিত। আমাদের বাড়ির রাস্তা নেই। রাস্তা হলে খুশি হবো।

ঘগড়া ইউপি চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন বলেন, ঋতুপর্ণা চাকমা শুধু ঘগড়া ইউনিয়নের গর্ব না। পুরো দেশের গর্ব। ওর বাড়িতে যাওয়ার পথটি আমি দ্রুত করে দেবো।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আপ্লুত হয়ে রুপনার পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি ঋতুপর্ণার বাড়িতে যাওয়ার সড়কটি তৈরি করে দেয়ার নির্দেশনা দেন।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, বীর কন্যাদের শুভেচ্ছা জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে জেলাটিও। বিশেষ আয়োজনে তাদের সংবর্ধনা দেয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বন্যাদুর্গত পাকিস্তানের পাশে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

এর আগে সাফ সেরার গৌরব অর্জন করায় রুপনা ও ঋতুপর্ণার বাড়িতে মিষ্টি, ফলমূলসহ নানা উপকরণ নিয়ে তাদের বাড়িতে যান রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

এ সময় জেলা প্রশাসক রুপনা ও ঋতুপর্ণার মায়ের হাতে দেড় লাখ টাকার করে চেক তুলে দেন। সেই সঙ্গে যে কোন প্রয়োজনে পরিবার দুটোর পাশে থাকার কথাও দেন এই কর্মকর্তা।


একাত্তর/আরবিএস