ব্রাজিলকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলা ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলের পাশাপাশি আলোচনার টেবিলে উঠে এসেছে কাতারের গ্যালারিতে এক ক্রোয়াট সুন্দরীর উপস্থিতি।
এবারের বিশ্বকাপে দর্শকদের জন্য বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা দিয়েছিলো কাতার। এর মধ্যে একটি হলো খোলামেলা পোশাক পরা যাবে না। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কাতারের আইন অনুযায়ী শাস্তির ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিলো। অথচ সেই নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে খোলামেলা রূপে গ্যালারি মাতিয়ে চলেছেন এই ক্রোয়েশিয়ান সুন্দরী! নেট দুনিয়ায় তাকে কাতার বিশ্বকাপের সবচেয়ে ‘আবেদনময়ী’ ভক্ত হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
জানা গেছে, কাতারের গ্যালারি কাঁপানো এই সুন্দরীর নাম ইভানা নল। তিনি সাবেক মিস ক্রোয়েশিয়া। নিজ দেশের খেলার সময় তিনি মাঠে উপস্থিত হন, আর উৎসাহ দেন লুকা মদরিচ ও তার সহযোদ্ধাদের।
ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বেশ কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে। এমন একটি ছবিতে দেখা যায়, তিনি গ্যালারির সিঁড়ি বেয়ে নামছেন, আর তার দিকে চেয়ে আছেন কাতারের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত কয়েকজন ব্যক্তি। এসময় ওই তরুণীর পরনে ছিলো ক্রোয়েশিয়ার জার্সির নকশায় একটি খোলামেলা টপস ও স্কিনফিট প্যান্ট। কাতারিদের এসময় স্বল্প বসনা এই সুন্দরীর ছবি তুলতেও দেখা যায়।
কাতারিদের তার ছবি তোলার পক্ষে সাফাই দিয়ে কাতারি ব্যবসায়ী মোহাম্মেদ হাসান আল-জেফাইরি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেন, ‘আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, তারা তাকে (ইভানা নলকে) পছন্দ করেন বলে তার ছবি তুলেননি বরং তারা তার পোশাকের ধরণ অপছন্দ করেন, এটা আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যায়না।’
এদিকে, স্টেডিয়ামের বাইরে গণমাধ্যমকে ইভানা নল বলেন, ‘যদি এখানে (কাতার) বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে তাদের উচিত সেসব বিষয় নিশ্চিত করা, যা ভক্তদের স্বাচ্ছন্দ্যে রাখবে। কোনও সীমাবদ্ধতা থাকবে না। কিন্তু পরে এখানকার কিছু নিয়মের কথা শুনি এবং আমি বিস্মিত হই। কাঁধ, গলা, পেট এসব দেখা যায় এমন পোশাক পরিধানে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে শুনে অবাক হয়েছি। আমার মনে হচ্ছিলো, সবকিছু ঢেকে রাখার মতো পোশাক তো আমার কাছে নেই।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে ইভানা আরও বলেন, ‘আমি খুব রাগান্বিত। আমি তো মুসলমান নই। ইউরোপে আমরা যদি হিজাবকে সম্মান দিতে পারি, তাহলে আমাদের জীবনধারাকেও তাদের সম্মান জানানো উচিত। আমাদের ধর্ম, পোশাক এসবকে সম্মান দেওয়া উচিত, কারণ আমি ক্রোয়েশিয়ার একজন ক্যাথলিক, এখানে এসেছি শুধুমাত্র বিশ্বকাপের জন্য, নিজের দেশকে সাপোর্ট করার জন্য।’
আরও পড়ুন: কোয়ার্টার ফাঁড়ায় আবারও কাটা ব্রাজিল, সেমিতে ক্রোয়েশিয়া
ইভানা জানান, কাতারে আসার পর তিনি অবাকও হয়েছেন। কারণ এখানে তার পোশাক নিয়ে সেরকম কোনও কড়াকড়ি নেই। শুধুমাত্র সরকারি ভবন ছাড়া যেকোনো জায়গায় নিজের ইচ্ছামতো পোশাক পরা যায়।
এরপরও গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায় না-এমন প্রশ্নের জবাবে ইভানা নলের স্পষ্ট জবাব, ‘আমি এসবে ভয় পাই না।’
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপেও পোশাকের স্বাধীনতার জন্য সোচ্চার হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন ইভানা নল।
একাত্তর/জো