ছাদখোলা বাসে চলছিল বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে লিওনেল মেসিদের উদযাপন। স্বাভাবিকভাবেই সমর্থকদেরও আনন্দ-উৎসব হয়ে পড়েছিল লাগামহীন। ৩৬ বছরের বিশ্বকাপ খরা ঘুচে যাওয়ায় এতো বিপুল মানুষ রাস্তায় জড়ো হয়েছিলেন যে শেষ পর্যন্ত হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়া হয় ক্ষুদে জাদুকর ও তার সতীর্থদের।
মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সের রাস্তায় ছিল না তিল ধারণের জায়গাও। হাজারো মানুষের ভিড়ে স্থবির হয়ে পড়ে রাস্তাঘাট।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মেসিদের শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত ওবেলিস্কো ভাস্কর্যে যাত্রার কথা থাকলেও উদযাপনরত আর্জেন্টাইনদের কারণে এগোতে পারছিল না আলবিসেলেস্তে দলকে বহনকারী বাস।
স্থানীয় মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৪০ লাখ সমর্থক উপস্থিত ছিলেন মেসিদের বিশ্বকাপ প্যারেডে।
এক পর্যায়ে ভয়াবহ কাণ্ড ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, টিম বাস ব্রিজ পার হওয়ার সময় বেশ কয়েকজন সমর্থক তাতে লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তাকর্মীদের বাড়তি তৎপরতা দেখা যায়। মেসিদের ছাদখোলা বাস থেকে তুলে দেওয়া হয় হেলিকপ্টারে।
উন্মাদনায় ভাটা পড়েনি তাতেও। আকাশে কপ্টার, রাস্তায় দাঁড়িয়েই চ্যাম্পিয়নদের কুর্নিশ আর্জেন্টিনা সমর্থকদের। পরিক্রমা শেষ হতেই অনেক ফুটবলারই নিজ নিজ ঠিকানায় রওয়ানা দেন। অধিনায়ক লিও মেসি ও অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া রওয়ানা হন রোসাসিওর উদ্দেশে।
এর আগে রোববার (১৮ ডিসেম্বর) শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে নেয় আর্জেন্টিনা। কিলিয়ান এমবাপের নৈপুণ্যে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে বারবার সমতা টেনে খেলা টাইব্রেকারে নিয়ে যায় ফরাসিরা।
আরও পড়ুন: ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষেই আছে ব্রাজিল
কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দৃঢ়তায় কাঙ্ক্ষিত জয়ের দেখা পায় আলবিসেলেস্তেরা। এরপর থেকেই আর্জেন্টিনায় শুরু হয়ে যায় সাধারণ মানুষের উদযাপন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোররাতে মেসিদের বহনকারী বিমান বুয়েনস আয়ার্সে অবতরণ করলে নতুন মাত্রা পায় ভক্তদের এই উল্লাস।
একাত্তর/আরএ