চমকে দিয়ে হঠাৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তেই নিয়েছেন বলে জানান তামিম ইকবাল খান।
চট্টগ্রামের বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান সিরিজের প্রথম ওয়ানডেটাই তার জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আবেগ আপ্লুত তামিম নিজের অবসরের দিনে অনুরোধ করেছেন এই সিদ্ধান্তকে যেন সম্মান করেন সবাই।
আষাঢ়ের এক বিষণ্ণ বিকেল নেমে এলো চট্টগ্রামে। ঘনঘোর বরষা ছিল না কোনো, তবে সবাইকে সিক্ত করে তুলতে তামিম ইকবালের চোখের জলই কি যথেষ্ট নয়?
ম্যাচ ডে না, নেই কোনো অ্যাড্রেনালিন রাশ। তবু উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। তামিম হয়তো ক্যাপ্টেন্সি ছাড়বেন। নাকি অন্য কিছু?
মুহূর্তেই বারুদ স্ফুলিঙ্গের মতো এলো ঘোষণাটা। ক্যাপ্টেন্সি তো বহুদূর। তামিম ইকবাল খান জানিয়ে দিলেন, জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটা তিনি খেলে ফেলেছেন একদিন আগেই।
এ সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তামিম জানান, এটা হঠাৎ করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। কয়েকদিন ধরেই তিনি পরিবারের সদস্যদের সাথে তার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কথা বলেছেন। যথেষ্ট বোঝাপড়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
বিদায়ের ঘণ্টা বাজানোর আনুষ্ঠানিকতায় তামিম শুরুটা করেছিলেন শুরু থেকেই। ইকবাল খান, টাইগার ওপেনারের বাবা। ছেলেটা তার স্বপ্ন পূরণেই হাতে তুলেছিল ব্যাট। সেখান থেকে শুরু করে হয়েছেন অনেক মানুষের স্বপ্ন সারথি। সবসময় সাফল্য আসেনি, তবে সন্দেহ নেই, নিজের কাজটা ঠিকঠাক করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেছেন শুরু থেকে শেষ অবধি।
তামিম বলেন, ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তাকে কতটুকু গর্বিত করতে পেরেছেন, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে তিনি তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।
বিদায়বেলা হুড়মুড় করে হাজির হয়েছে পেছনে ফেলে আসা স্মৃতি। সুনামির মতো তেড়ে আসা আবেগটুকু সামাল দেয়া যায় না তাই।
তামিম জানালেন তার প্রয়াত ছোটচাচা আকবর খানের কথা, যার হাত ধরে তার প্রথম ক্রিকেট টুর্নামেন্ট খেলা। ছোটবেলার কোচ তপন দার কথা। যার কাছে তার ক্রিকেটের হাতেখড়ি। বিদায়বেলায় শ্রদ্ধা ভরে তাদের স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা জানান তামিম।
উপস্থিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে তামিম বলেন, তারা যেন কোনো খেলোয়াড়কে নিয়ে লেখেন, তখন যেন ক্রিকেটের বাউন্ডারি অতিক্রম না করেন। তিনি ভালো খেললে প্রশংসা, খারাপ খেললে সমালোচনা করা ঠিক আছে, কিন্তু এর বাইরে যেন না যান।
১৬ বছরের ক্যারিয়ার শেষ হয়, যেমনটা শেষ হয়ে যায় বাকি সবকিছুই। তামিমকে আর কখনো দেখা যাবে না টাইগার জার্সিতে? ভাবতে কেমন লাগে?
একাত্তর/জো