১৫ আগস্ট অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে ক্রীড়াঙ্গনেও

ইতিহাসের কলঙ্কময় দিন ১৫ই আগস্ট। যে দিন দেশ হারিয়েছিলো তার রূপকারকে, বাঙালি হারিয়েছিলো তার অভিভাবক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর তার পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে অসহায় বাঙালি আজও সে ক্ষতি পূরণ করতে পারেনি। অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে ক্রীড়াঙ্গনেও।

বুলেট বারুদের ঝলসে যাওয়া সে রাত আর আলো দেখেনি, ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে গোটা জাতি, পুরো বাংলাদেশ। যে রাত বাংলার অভিভাবক হারানোর রাত, যে রাত স্বপ্নদ্রষ্টাকে হারানোর রাত, যে রাত সব খোয়ানোর, সর্বহারা হবার রাত। ১৫ আগস্ট শুরু হওয়া বাঙালির সেই কান্না আজও শেষ হয়নি, শেষ হবেও না কোনদিন, সে কথা জানে এই বাংলার সবুজ প্রান্তর, ফসলের ক্ষেত, খেলার মাঠ, জানে ইতিহাস।

বঙ্গবন্ধুকে হারানো কেবল নিছক ক্ষতি নয়, সবদিক থেকে সহস্র বছর পিছিয়ে গেছে দেশ, বাঙলার গায়ে লেগেছে সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানকে হারানোর ক্লেশ। সেই ক্ষতির পরিণতি এখনো সামলে উঠতে পারছে না দেশের ক্রীড়াঙ্গন।

বঙ্গবন্ধুর হাতেই তো একে একে গড়ে উঠেছিলো অনেকগুলো স্পোর্টস ফেডারেশন; নিজেও ফুটবল খেলতে ভালোবাসতেন তিনি, তাই ক্রীড়াজগত ও এর মানুষেরা ছিলো তার খুব কাছের, আপনজন। তার আমলেই ফিফার সদস্যপদ পেয়েছিলো বাংলাদেশ। ৭৩ থেকে ৭৫ সালের মধ্যে খেলেছিলো ১৪ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

বঙ্গবন্ধুপুত্র শেখ কামালও ছিলেন খেলা অন্তপ্রাণ; তার হাতেই ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হয়েছিলো নতুনের গান, এসেছিলো আধুনিকতার ফরমান। তিনি খেলা ভালোবাসতেন, নিজে খেলতেন; মগ্ন থাকতেন সাংগঠনিক সাধনায়; তার হাতে গড়া আবাহনী ক্লাব আজও সেই সাক্ষ্য দেয়।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিপ্লব ঘটিয়ে গেছেন সেই কালরাতে প্রাণ হারানো তার দুই পুত্র শেখ কামাল আর শেখ জামাল। এই ক্রীড়াঙ্গনে আজো যাদের শূন্যতা অনুভব করা যায় স্পষ্ট, সবুজ ময়দান আজো কেঁদে ওঠে যাদের শোকও ব্যাকুলতায়।

শুধু ফুটবল নয়, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বঙ্গবন্ধু আর তার পরিবার ছিলো জটিল অঙ্কের সহজ সমাধান। শেখ কামাল থেকে জামাল, সুলতানা কামাল কিংবা খোদ বঙ্গবন্ধু খেলার প্রতি তাদের ছিলো ভীষণ টান। এখনো যে অনুরাগের ঝাণ্ডা বয়ে বেড়ান বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগলে রাখেন সাকিব সাবিনা জাহানারা জামালদের।

আরও পড়ুন: হাথুরুসিংহের ছেলে কি শুধুই ঘুরতে এসেছেন?

তবুও তো বড় ক্ষত মোছে না সহজে, বুকের বেহালায় বেজে যায় বেদনার করুন সুর, ১৫ আগস্ট না এলে বাংলায়, না নামলে এমন আঁধার নিশ্চয়ই ক্রীড়াঙ্গন যেতো আরও বহুদূর। সাকিব জামাল হয়তো এতদিনে করে ফেলত বিশ্ব জয়। বঙ্গবন্ধু কিংবা শেখ কামালদের দূরদর্শী পরিকল্পনায়।


একাত্তর/আরএ