লিওনেল মেসির পর দুনিয়া শাসন করবে কে? কোন ফুটবলার এভাবে মাতিয়ে রাখবে? খেলাটায় একদম আগ্রহ নেই যার তার পক্ষেও এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না, এমন একজন খেলোয়াড় কে হবেন? ওকে গড়ে তুলেছে যারা সেই ক্লাব বার্সেলোনা ভেবেছে, মেসি পরবর্তী ফুটবল বিশ্ব শাসন করবে তাদেরই একজন আনসু ফাতি। কিন্তু তা আর হলো কই। ফাতি কেন হারিয়ে যাচ্ছেন?
অনিচ্ছাতেও খুলে রেখে এসেছিলাম বুটো জোড়া, জার্সিটাও কেউ পরবে না আর, খেলছি না তাই, আমার যা ছিল সব তোরই হোক। আমি যা পারিনি তুই পারবি তাই। লিওনেল মেসি চোখের জলে বার্সেলোনা থেকে বিদায়ের বেলার আনসু ফাতিহকে কথাগুলো বলেছিলেন কিনা জানা নেই। তবে বার্সা ফাতিকে মেসির জায়গাতেই ব্র্যান্ডিক করতে চেয়েছিলো।
তাই তো মেসির সেই ঐতিহাসিক নাম্বার টেন দেয়া হয় ফাতিকেই। তাদের ধারণা ছিল, মেসির পর কাতালানদের অ্যাকাডেমি লা মেসিয়াতে তৈরি হওয়ার ফুটবলারদের মধ্যে এই আনসু ফাতিই কেবল দুনিয়া শাসন করার ক্ষমতা রাখে।
তার কারণও ছিল যথেষ্ট। ২০১৯ -এ যখন অভিষেক হয়, তখন ইউরোপিয়ান ফুটবলে লা লিগার ব্যাপক দাপট। ফাতিও সেই আভাস দিচ্ছিলেন। অসংখ্য রেকর্ড গড়ে তাক লাগিয়ে দেন। শুরুর কিছু কিছু দিক থেকে তো মেসির চেয়ে ভালো ছিল।
মাত্র ১৬ বছর ২৯৮ দিন বয়সে অভিষেক হয়। ফাতিহ ছিলেন বার্সার হয়ে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ অভিষিক্ত প্লেয়ার। অভিষেকের পরের সপ্তাহেই গোল পেয়ে যান, বনে যান বার্সার সর্বকনিষ্ঠ গোল স্কোরার। সেই ২০১৯ সালেই ফাতি হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম গোল স্কোরার।
কিন্তু ক্যারিয়ারের দারুণ সেই শুরুর বছর খানেক পরেই ভোজবাজির মতো পাল্টে যেতে শুরু করে সব। ফাতি পড়েন ইনজুরির ফাঁদে। প্রথমে হাঁটুর চোটে পড়েন, তারপর সমস্যা ধরা পড়ে মাসলেও। লিগামেন্টেও সমস্যা, ক্যারিয়ার থমকে দিতে আর কি লাগে। দ্যা সেকেন্ড মেসির ক্ষেত্রেও হলো তাই। কয়েক দফায় যেতে হলো ডাক্তারের ছুরি-কাঁচির নিচে।
তারপরের গল্পটা সবারই জানা, ফাতি হয়ে পড়লেন নিষ্প্রভ মলিন। ঐতিহাসিক সেই দশ নম্বর জার্সিটায় ফাতির নাম বসানো হলো বটে, কিন্তু সেটা বিক্রি করতে ঘাম ছুটছে কাতালানদের। ফোর্বস ম্যাগাজিন প্রথম তুললো আলোচনাটা। ফাতিকে ওই জার্সিটা দিয়ে ভুল করলো না তো বার্সেলোনা।
এখন মনে হচ্ছে ভুল নয়, মহাভুল করে ফেলেছে মেসির সাবেক ক্লাব। কারণ ওদের নাম্বার টেনের যে এখন বেশিরভাগ সময়ই কাটে সাইডবেঞ্চে বসে। দলের তাতে খুব একটা ভালো ব্র্যান্ডিং হচ্ছে না নিশ্চয়। আর যে ফাতি বার্সার সাথে লম্বা সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন, তিনিও ভাবছেন শৈশবের ক্লাব ছেড়ে এখন অন্য কোথাও পাড়ি জমাতে।