বিশ্বকাপের ড্রেস রিহার্সাল এশিয়া কাপ। এবারের বৈশ্বিক লড়াইটা যেহেতু এশিয়াতেই তাই এই মহারণের গুরুত্ব অন্যবারের চেয়ে বেশি। আবার তাবৎ দুনিয়ার ক্রিকেট পাওয়ার হাউজগুলোর মধ্যে অন্যতম দেশগুলোর অবস্থান এই অঞ্চলেই। ক’দিন বাদে এশিয়া কাপ খেলতে নামছে যে পরাশক্তিরা, একে একে সবার হাল হকিকত জানাচ্ছে খেলাযোগ। শেষ পর্বে থাকছে আফগানিস্তানের কথা।
যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ। যেখানে ঘুম ভাঙে গোলা-বারুদের শব্দে। দিন শুরু হয় রক্ত আর বীভৎস দৃশ্যে। জীবনের মানেই যেখানে বেঁচে থাকার লড়াই... সেখানে ক্রিকেট তো বিলাসী ব্যাপারই বটে। তবে ওরা বদলে দিয়েছে সব ধারণা। শান্তি, ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় হাতে বন্দুক নয়, তুলে নিয়েছে ক্রিকেট ব্যাট।
যুদ্ধের দামামায় ক্ষত-বিক্ষত দেশের স্মৃতিটা আজও ওদের কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। জাতীয় সংগীতে ভেসে আসে চোখ। কিন্তু তাই বলে থেমে যায়নি ওদের পথচলা। ২০০৯ সালে ওয়ানডে মর্যাদা পাওয়া আফগানিস্তান আজ ওডিআই র্যাংকিং -এ নবম।
আফগান ভূমিতে যখন শান্তির সংকট। তখন দলটা ব্যস্ত এশিয়া কাপে। চোখটা বিশ্বকাপের ট্রফিতে রাখলেও এশিয়া কাপ কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। যদিও এশিয়া কাপের পরিসংখ্যান খুব একটা পক্ষে কথা বলে না।
২০১৪-২০২২ অবধি এশিয়া কাপের আসরে মোট ৯ ম্যাচে ৩ জয় পেয়েছে রাশিদ-নবীরা। এমন পরিসংখ্যানে হয়তো ওদের থোরাই কেয়ার। কারণ সম্প্রতি ওয়ানডেতে ওরা যে বেশ দাপুটে। এই যেমন জুলাইয়ে টাইগারদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নেয় ওরা। আর যদি আফগানদের ওয়ানডে পরিসংখ্যান দেখা হয়। তবে হিসেবটা ঠিক এমন। ১৪৯ ওয়ানডের ৭৩ ম্যাচে জয়, ৭৫ ম্যাচে পরাজয়।
এশিয়া কাপের এবারের আসরে বি গ্রুপে বাংলাদেশ আর ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন লঙ্কাদের বিপক্ষে লড়বে আফগানিস্তান। আর এশিয়া কাপে ওদের মিশন শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩ সেপ্টেম্বর লাহোরে। পরের ম্যাচটা আফগানরা খেলবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন লঙ্কার বিপক্ষে ৫ সেপ্টেম্বর।
এশিয়া কাপে দলের অতীত ইতিহাস সমৃদ্ধ না হলেও, বর্তমান দলটা যেকোনো দলকে ধসিয়ে দিতে পারে নিমিষেই। কারণ ওদের আছে বিশ্বসেরা স্পিন আক্রমণ। রশিদ, নবী, মুজিবুর যে বাঘা বাঘা ব্যাটারদের ভয়েরই কারণ।
আর দলের তুরুপের ত্রাস রশিদকে নিয়ে তো যেকোনো দলকে ভাবতে হয় বারবার। ওর পারফরম্যান্সই যে সেই কথা বলে।
তবে দলটা যে শুধু স্পিন আক্রমণেই ভীত গড়েছে ব্যাপারটা তা নয়। ওদের আছে গুরবাজের মতো মারকুটে ব্যাটার। যার ব্যাট চলে চাবুকের মতো। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ওর ২৩ ম্যাচে ৯৪৮ রান। সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় এরই মাঝে ওর ক্যারিয়ারে আছে ৫টা সেঞ্চুরি।
মারকুটে ব্যাটার ছাড়াও ওদের আছে অভিজ্ঞ রহমত শাহর মতো রান মেশিন। আফগান ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রানের মালিকও রহমত। যার ব্যাট দলকে উপহার দিতে পারে লম্বা ইনিংস।
দলটার আরেক অস্ত্র মোহাম্মদ নবী। আফগানরা এখন অবধি খেলেছে ১৪৯ ওয়ানডে। যার মধ্যে নবীই খেলেছেন ১৪৪ ম্যাচ। ওর অভিজ্ঞতা আর পারফরম্যান্স যেকোনো দলের জন্য ভয়ানক বার্তাই দেবে।
আফগানিস্তানের বর্তমান দলটার গড় বয়স কম, কিন্তু ব্যাট-বলে মোটেও ছেড়ে দেবার পাত্র নয়। এবারের এশিয়া কাপে আফগানরা ফেভারিট নাইবা হতে পারে কিন্তু বড় দলগুলোকে ধসিয়ে দিতে পারে যখন তখন।