মাত্র ১৪১ রানে জিম্বাবুয়েকে গুটিয়ে দিয়েও জয়ের দেখা পেলো না বাংলাদেশ। নাহিদ রানার ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের পর ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ২৫ রানের হার দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করলো টাইগাররা। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।
হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। শুরুতে অবশ্য স্বস্তিতেই ছিল জিম্বাবুয়ে। প্রথম ছয় ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৭ রান তোলে দুই ওপেনার বেন কারান ও ব্রায়ান বেনেট।
সপ্তম ওভারেই ম্যাচে প্রথম ধাক্কা দেয় বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের ওই ওভারের চতুর্থ বলে ব্যক্তিগত ১৮ রানে রান আউট হন বেন কারান। একই ওভারের শেষ বলে ১৭ রান করা ব্রায়ান বেনেটকে ফিরিয়ে দেন তাসকিন। এরপর নবম ওভারের প্রথম বলেই ক্রেইগ আরভিনকে বোল্ড করে জিম্বাবুয়েকে আরও চাপে ফেলেন এই পেসার।

৩৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর নাহিদ রানার গতির সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। মাত্র ২৫ রান যোগ করতেই হারায় আরও পাঁচ উইকেট। সিকান্দার রাজা (১), ওয়েসলি মাধভেরে (০), ক্লাইভ মাদান্দে (২), ইনোসেন্ট কাইয়া (২৬) ও ব্র্যাড ইভান্সকে (৩) সাজঘরে ফেরান নাহিদ। এতে ৭০ রানেই অষ্টম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।
১৪ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি ছিল নাহিদের তৃতীয় পাঁচ বা ততোধিক উইকেট শিকার। এর আগে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একবার করে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
একপর্যায়ে ১০০ রানের আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে জিম্বাবুয়ে। তবে অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভা ও নিউম্যান ন্যামহুরি নবম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২৭তম ওভারে দলের শতরান পূর্ণ করেন তারা। এরপর ৩০তম ওভারে তাদের জুটি পঞ্চাশ রান স্পর্শ করে।
ইনিংসের ৩৪তম ওভারে নিজের নবম স্পেলে ফিরে এনগারাভাকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন নাহিদ। ৩টি চারে ৪১ বলে ২৭ রান করেন এনগারাভা। ন্যামহুরির সঙ্গে তিনি ৮১ বলে ৬৩ রানের জুটি গড়েন। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ইনিংসে ৬ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন নাহিদ।
দলীয় ১৩৩ রানে নবম উইকেট পতনের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। শেষ ব্যাটার হিসেবে ন্যামহুরিকে ফিরিয়ে ৩৬.৪ ওভারে স্বাগতিকদের ১৪১ রানে গুটিয়ে দেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ন্যামহুরি ৫টি বাউন্ডারিতে ৫১ বলে ৩৩ রান করেন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন ব্লেসিং মুজারাবানি।
১০ ওভারে ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন নাহিদ রানা। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে এটিই এখন সেরা বোলিং ফিগার। এ কীর্তিতে তিনি ছাড়িয়ে যান দুই সাবেক পেসার মাশরাফি বিন মর্তুজা ও রুবেল হোসেনকে। তাসকিন নেন ২টি এবং মিরাজ শিকার করেন ১ উইকেট।
১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ১৭ রানেই হারায় ৩ উইকেট। ওপেনার তানজিদ হাসান ৮, সৌম্য সরকার ৬ ও নাজমুল হোসেন শান্ত ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তানজিদ ও শান্তকে ফেরান ব্লেসিং মুজারাবানি, আর সৌম্যকে আউট করেন অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভা।
এরপর চতুর্থ উইকেটে ৪৯ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন তাওহিদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান। তবে ৫৮ বলে ২৫ রান করা হৃদয়কে ফিরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন নিউম্যান ন্যামহুরি।
দলীয় ৬৬ রানে হৃদয়ের বিদায়ের পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ ৭ ব্যাটার ফেরেন মাত্র ৫০ রান যোগ করতে। ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানে গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে নুরুল হাসান সোহান ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ বলে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন। হৃদয় করেন ২৫, মিরাজ ১০, মোসাদ্দেক হোসেন ৩, রিশাদ ৩, তাসকিন ও মুস্তাফিজ ৫ রান করে আউট হন। নাহিদ রানা ৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
জিম্বাবুয়ের হয়ে রিচার্ড এনগারাভা ও ব্র্যাড ইভান্স ৩টি করে এবং ব্লেসিং মুজারাবানি ও নিউম্যান ন্যামহুরি ২টি করে উইকেট নেন। ব্যাট হাতে ৩৩ রান ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন ন্যামহুরি।
সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ আগামী ৯ জুলাই দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আবার জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে শক্তিশালী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
চোখের পানিতে বিশ্ব ফুটবলকে বিদায় বললেন নেইমার