কখনো ক্র্যাম্প, কখনো অভিনয়: রিজওয়ান

পেশিতে টান নয় বরং করেছেন অভিনয়! হাসতে হাসতে বললেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ক্র্যাম্প হোক কিংবা অভিনয়, আসল সত্যি হলো দলের বিপদে আবারো রিজওয়ানই হয়ে উঠলেন ত্রাতা। উদ্ধার করে পৌঁছে দিলেন টানা জয়ের ধারায়। বিশ্ব রেকর্ড গড়ে টানা দুই জয় তুলে নিলো পাকিস্তান। দুই ম্যাচেই এই উইকেট কিপার ব্যাটার করে ফেলেছেন প্রায় ২০০ রান।

রিজওয়ানের ক্রাম্পের ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজের কথা। হারের আগেই হেরে বসলেন মোস্তাফিজ, ক্রাম থেকে উঠে দাঁড়াতে চাইলেন না তিনি। অন্যদিকে আর ক্রাম্প নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে, দলকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে নিয়ে গেলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। দুই আলাদা ম্যাচের দৃশ্য হলেও যেনো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, সফলতা আর ব্যর্থতা কেনো দাঁড়িয়ে দুই মেরুতে।

জিততে গেলে গড়তে হবে বিশ্বরেকর্ড। শুরুতেই নাই দুই উইকেট। প্রথমবার খেলতে নেসে আব্দুল্লাহ সাহস দিলেন। আমরাই পারব। এমন অবস্থায় পেশিতে টান খেলেন রিজওয়ান। পড়ে গেলেন, আম্পায়ার দিলেন দুইটা অপশন, হয় রিটায়ারর্ড হার্ট হয়ে ফিরতে হবে নয়তো মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ছাড়া ব্যথা নিয়েই চালাতে হবে খেলা। রিজওয়ান খানিকটা সময় নিলেন, জানালেন পেছনে ফেরার সময় যে নেই তার। দলের জন্য জানবাজি রাখার এইতো সময়।

ব্যথায় কাতরানো রিজওয়ান ফিরলেন বটে। বুক চিতিয়ে দলকে জিতিয়ে। খেললেন ১২১ বলে ১৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস। আর পুরো ইনিংসে কেবল পঞ্চাশ রান এসেছে বাউন্ডারি আর ওভার বাউন্ডারি থেকে। বাদ বাকী ৮১ রান তিনি নিয়েছেন দৌড়ে। অবশ্য রিজওয়ানের জন্য এসব নতুন কিছু নয়। হাসপাতালের শয্যা থেকে উঠে এসেও খেলেছেন ম্যাচ জয়ী ইনিংস।

৩০০ বল কিপিং, তিনটা ক্যাচ, সাথে ক্ল্যাসিক ইনিংস। পাকিস্তানের দ্বিতীয় উইকেটরক্ষক হিসাবে বিশ্বকাপে গড়লেন শতরান করার নজির। বিশ্বকাপে কেবল দুই ম্যাচ খেললো পাকিস্তান, দু’বারই উদ্ধাকর্তা মোহাম্মদ রিজওয়ান। প্রথম ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরির পর এবারেরটা শতক। ১৯৯ গড়ে নিজেকে কোথায় নিয়ে যাবেন কে জানে। সামনে আরও পড়ে আছে অনেকগুলো ম্যাচ।

অনবদ্য পারফর্ম্যান্সে শেষে প্রেজেন্টেশনে তাই শুরুর প্রশ্নই ছিলো পেশির টান নিয়ে। না রিজওয়ান কোনো আবেগি কথা বলে হিরো হতে চাননি বরং বলে গেলেন যুদ্ধ জয়ের মন্ত্র। সবাইকে বিস্মিত করে হাসির ছলে বললেন। কখনো ক্র্যাম্প ছিল, কখনো আবার অভিনয়।

রিজওয়ানরা অভিনয় করে, দলের বাকিদের ব্যর্থতার দিনেও শির উচিয়ে ধরে। কুকরে থাকা মনে আশার বীজ বোনে। পুরো বিশ্ব দেখে আর বলে আরে যোদ্ধরাতো এমনই হয় এ আর নতুন কি?