ট্র্যাকের ভেতর আর ট্র্যাকের বাইরে জমে উঠেছে প্যারিস অলিম্পিক। নানাভাবে দর্শকরা উপভোগ করছেন প্রতিটা মুহূর্ত। অলিম্পিক দেখতে আসা একেকজনের একেক ইভেন্ট পছন্দ হলেও সবাই ভিড় জমাচ্ছেন একটা কমন জায়গায়, সেটা স্যুভেনিয়ার শপ। প্রায় আটশ’র ওপর পণ্য আনা হয়েছে অলিম্পিক উপলক্ষ্যে। আর সেগুলো কিনতে দোকানের বাইরে মানুষের লম্বা লাইন।
প্যারিস অলিম্পিক্সে লাল রঙের পুতুল নিয়ে হুড়োহুড়ি। কেউ কিনছে, কেউ দেখছে কেউবা আবার ছবি তুলছে। আর এই পুতুল আর অন্যকিছু নয়, প্যারিস অলিম্পিক্সের মাস্কট, নাম ফ্রিজেস। অলিম্পিক সুভ্যেনিয়ার হিসেবে যাকে বলা হচ্ছে হট কেক।
অলিম্পিক উপলক্ষ্যে প্যারিসের বিভিন্ন ব্যুথে শুধু মাস্কটই নয়, টি-শার্ট, মগ, ক্যাপ, চাবির রিংসহ বিভিন্ন আইটেমের ছড়াছড়ি। তবে কিনতে কিনতে ক্লান্ত হয়ে গেলে আছে চকলেট আছে পেস্ট্রি। সেগুলোও আবার অলিম্পিক্স স্পেশাল। সব মিলিয়ে আটশ’র ওপর আইটেম আছে একেকটা শপে।
অবশ্য চাইলেও খুব একটা সস্তা দামে পাওয়া যাচ্ছে না এসব। ছোট একটা পুতুলের দাম আড়াই হাজার টাকা। আর বড়টার দাম ১ লাখ টাকার ওপর। কিন্তু দাম যাই হোক, অলিম্পিকে এসে একটা স্মৃতি না নিয়ে বাড়ি ফিরলে কি হয়?
যে কোন আসরে মাস্কট বানানো হয় নির্দিষ্ট কোন অর্থ বা বার্তা থেকে। প্যারিস অলিম্পিকে তাই ফ্রিজেসের পেছনে কোন বার্তা লুকনো আছে তা নিয়ে ফ্যানদের মাঝে চলছে গবেষণা, আসছে একের পর এক থিওরি।
কেউ বলছেন এটা আইফেল টাওয়ারের অনুকরণে বানানো হয়েছে। কেউ বলছেন এটার আকৃতি প্যারিসের বিখ্যাত টুপি বেরেটের মতো।
মূলত এবারের অলিম্পিক্সে মাসকট বানানো হয়েছে ফ্রিজিয়ান টুপির আদলে। ফ্রেঞ্চ বিপ্লবে আসা স্বাধীনতার প্রতীক এক ফ্রিজিয়ান ক্যাপস। বলা হয় রোমান সাম্রাজ্যে যেসব দাস মুক্ত হয়েছিলেন তারা এই টুপি পড়তেন।
অলিম্পিক্সের সুভেনিয়ার শপে বিভিন্ন আইটেমের মাঝে শোভা পাচ্ছে নানা পেইন্টিং, যেখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ফ্রান্সের ইতিহাস, প্যারিসের ঐতিহ্য। আর এসব দেখতে কিনতে দোকানগুলোর ভেতরে যেমন ভিড় তেমন বাইরে লম্বা লাইন।