আলেকজান্ডার ইসাক। সুইডিশ এই ফুটবলারকে নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে। ২৫ বছরের এই ফরোয়ার্ডকে ধর পেতে রীতিমতো যুদ্ধে নেমেছেন ইংলিশ জায়ান্টারা। শেষ পর্যন্ত সবাইকে পেছনে ফেলে ইংলিশ ফুটবল ইতিহাসে রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে ইসাককে দলে ভিড়িয়েছে লিভারপুল।
আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা অবশ্য এখনও আসেনি। দুই ক্লাবের কোনোটি কোনো সাড়া দেয়নি সংবাদমাধ্যমের নানা অনুরোধে। তবে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি, স্কাই স্পোর্টস এবং দ্য অ্যাথলেটিকসহ আরও নানা সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেই দিয়েছে সুইডিশ স্ট্রাইকারকে নিয়ে দুই ক্লাবের সমঝোতা হয়ে গেছে।
বেয়ার লেভারকুসেন থেকে গত জুনে ফ্লোরিয়ান উইর্টজকে আনতে ১২৫ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছিলো লিভারপুল। এই দলবদল জার্মান ফুটবলারকে লিভারপুলের তো বটেই, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসেও সবচেয়ে দামি ফুটবলার বানিয়ে দেয়। উইর্টজের এই রেকর্ড আড়াই মাসও টিকছে না।
উইর্টজের রেকর্ড ভাঙতে চলেছেন আলেকজান্ডার ইসাক। তাকে পেতে লিভারপুল নাছোড়বান্দা ছিল। গত আগস্টে ১২৭ মিলিয়ন ইউরো অফার করেও প্রত্যাখ্যাত হয় তারা। নিউক্যাসলের চাওয়া ছিল ১৭৩ মিলিয়ন ইউরো। দলবদল সম্পন্ন করার আগ্রহ থেকে নিউক্যাসল চাহিদা কমিয়েছে, বাড়িয়েছে লিভারপুল।
২৫ বছর বয়সি ফুটবলার নিজেও নিউক্যাসলকে চাহিদা কমাতে বাধ্য করেছেন। দল ছাড়ার সিদ্ধান্তে অনড় ইসাক গত কয়েকদিন ধরে সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করেননি। খরবর অনুযায়ী, ১৩ কোটি পাউন্ডে (প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মার্কিন ডলার) নতুন ঠিকানায় যাচ্ছেন ইসাক, যা ট্রান্সফার ফির ব্রিটিশ রেকর্ড।
তাকে পেতে অবশ্য বেশ কাঠখড় পোড়াতেই হলো লিভারপুলকে। গত মৌসুমে অসাধারণ পারফর্ম করা ফরোয়ার্ড লিভারপুলে যাওয়ার আগ্রহের কথা লুকাননি। নিউক্যাসলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের। নিউক্যাসল সেটির জবাবও দেয়। দুই পক্ষের সম্পর্কের অবনতি হয় চরমভাবে।
সুইডিশ ক্লাব অয়কোর একাডেমিতে পা রেখে ইসাকের ফুটবলার হওয়ার পথে যাত্রা শুরু ছয় বছর বয়সে। ২০১৬ সালে এই ক্লাবের হয়েই শুরু পেশাদার ক্যারিয়ার। পরের বছরই নাম লেখান বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে। সেখানে খেলার সুযোগ তেমন পাননি বললেই চলে। ধারে কিছুদিন খেলেন নেদারল্যান্ডসের ক্লাব ভিলেমে।
পরে ২০১৯ সালে পাড়ি জমান স্পেনে রিয়াল সোসিয়েদাদে। সেখানে তিন মৌসুমে মোটামুটি পারফর্ম করে পরিচিত যান। ২০২২ সালে নিউক্যাসলের ট্রান্সফার ফির রেকর্ড গড়ে ছয় বছরের চুক্তিতে প্রথমবার চলে আসেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে। অভিষেকেই লিভারপুলের বিপক্ষে অ্যানফিল্ডে গোল করে ম্যাচ-সেরা হন।