বিপিএল মাতানো উসমান খানের চোখ শ্রীলঙ্কা সিরিজে

সংযুক্ত আরব আমিরাত ছেড়ে নিজ দেশ পাকিস্তানের হয়ে খেলার আজন্ম লালিত স্বপ্ন পূরণ হয়েছে উসমান খানের। এখন তার লক্ষ্য পাকিস্তানের জার্সিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিপিএল খেলতে আসা এই উইকেটকিপার-ব্যাটার মনে করেন, প্রধান কোচ মাইক হেসনের অধীনে পাকিস্তান দলের প্রস্তুতি ও চমৎকার কম্বিনেশন তাদের আগামী বছরের শুরুতে বিশ্বকাপ জেতার বড় সুযোগ করে দিয়েছে।

আগামী মাসেই শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। বিশেষ করে ৭ জানুয়ারি থেকে ডাম্বুলায় শুরু হতে যাওয়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজকে বিশ্বকাপের বড় মহড়া হিসেবে দেখছেন উসমান। যেহেতু আগামী বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচ শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডি ও কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হবে, তাই ডাম্বুলার উইকেট ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়াকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি।

ইএসপিএন ক্রিকইনফোর সাথে আলাপে উসমান বলেন, আমাদের কোচ মাইক হেসন বিশ্বকাপের আগে আমাদের বেশ ভালোভাবে প্রস্তুত করেছেন। শ্রীলঙ্কার উইকেটগুলো বোঝার জন্য ডাম্বুলা সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ হবে। আমরা এই সিরিজটি জিততে চাই।

উসমান খান বিপিএলের একজন পরিচিত মুখ। এর আগে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ও চট্টগ্রাম কিংসের হয়ে খেললেও এবার তিনি খেলছেন ঢাকা ক্যাপিটালসে। বিপিএলের কন্ডিশন তাকে সাহায্য করবে জানিয়ে তিনি বলেন, সিলেট ও চট্টগ্রামের উইকেট চমৎকার হলেও ঢাকার উইকেট প্রথম কয়েক ওভার ওঠানামা করে। বিভিন্ন কন্ডিশনে খেলার এই অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাস জোগায়।

বিপিএল ছাড়াও উসমান পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। সম্প্রতি প্রেসিডেন্টস কাপে অপরাজিত ১৫৯ রানের ইনিংস ছাড়াও কায়েদ-এ-আজম ট্রফিতে দুটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। নিজের ফিটনেস ও উইকেটকিপিং নিয়ে বাড়তি কাজ করছেন বলেও জানান ৩০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

usman-khan1

উসমান এখন কেবল মারকুটে ব্যাটার নয়, বরং ম্যাচ ফিনিশার হিসেবে নিজেকে গড়তে চান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি রিজওয়ান ভাই, সাইফি (সরফরাজ) ভাই ও বাবর ভাইয়ের অধীনে অনেক খেলেছি। তারা ইনিংস গড়ার ওপর জোর দেন এবং শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে ম্যাচ জেতান। আমি প্রতিটি স্তরে এই দর্শনটি অনুসরণ করতে চাই যাতে জয় নিশ্চিত করে তবেই ড্রেসিংরুমে ফিরতে পারি।

২০২৩ সালে আরব আমিরাতের হয়ে খেলার সুযোগ এবং কেন্দ্রীয় চুক্তি ছেড়ে দিয়ে পাকিস্তানে ফিরে আসা উসমানের ক্যারিয়ারের বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল। এজন্য তাকে আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের নিষেধাজ্ঞাও সইতে হয়েছে। তবে এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই তার।

উসমান বলেন, আমিরাতের হয়ে খেললেও পাকিস্তান আমার নিজের দেশ, আমার মানুষ। পাকিস্তানের হয়ে খেলা আমার শৈশবের স্বপ্ন ছিল। আল্লাহর কাছে শোকর যে আমি সেই সুযোগ পাচ্ছি।