চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি ফুটবল ইতিহাসের এক চরম দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। টানা তৃতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের মালিক হয়েছে তারা। সম্প্রতি বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে ফাইনালে খেলার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে তাদের। ইতালির এই ক্রমাগত পতনের নেপথ্যে রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং মানসিক গতির অভাবকে দায়ী করেছেন বর্তমান ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
ইতালীয় পত্রিকা ‘ইল জিওরনাল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি জানান, ইতালির এই বিপর্যয়ের মূলে রয়েছে বিশ্বমানের ডিফেন্ডার তৈরির ব্যর্থতা। ইতালীয় ফুটবলের ঐতিহ্যই ছিল শক্তিশালী ডিফেন্স বা রক্ষণভাগ। কিন্তু বর্তমানে অতিরিক্ত কৌশলনির্ভর ফুটবলের দিকে ঝুঁকতে গিয়ে ইতালি তাদের সেই সহজাত রক্ষণাত্মক মানসিকতা হারিয়ে ফেলেছে।

আনচেলত্তির ভাষায়, ফুটবল মানে শুধু গোল দেওয়া নয়, গোল হজম না করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের হয় সেই রক্ষণাত্মক মানসিকতা ফিরিয়ে আনতে হবে, নয়তো এই ভোগান্তি চলতেই থাকবে।
আনচেলত্তি বর্তমান ফুটবলে ইতালির পিছিয়ে পড়ার আরেকটি কারণ হিসেবে ‘পেস’ বা গতিকে চিহ্নিত করেছেন। এটি শুধু দৌড়ানোর গতি নয়, বরং ‘মেন্টাল পেস’ বা মানসিক ক্ষিপ্রতা এবং খেলার তীব্রতা। তাঁর মতে, ইতালীয় ফুটবল এই তীব্রতা ধরে রাখতে পারছে না, যা আধুনিক ফুটবলে অপরিহার্য।
ইতালীয় ঘরোয়া লিগ সিরি-আ’র মান পড়ে যাওয়াকেও একটি বড় কারণ হিসেবে দেখছেন এই অভিজ্ঞ কোচ। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আগের মতো ম্যারাডোনা, প্লাতিনি বা রোনালদোর মতো বিশ্বসেরা খেলোয়াড়রা এখন আর ইতালিতে খেলতে আসেন না।
টিভি স্বত্ব এবং শক্তিশালী বিনিয়োগকারীর অভাবে বিদেশি লিগগুলো এখন অনেক বেশি আকর্ষণীয়। ফলে তরুণ ইতালীয় খেলোয়াড়রা কার কাছ থেকে শিখবে, সেই আদর্শ বা আইডলও আজ সংকটে। এ বছর ইউরোপীয় কোনো প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে কোনো ইতালীয় ক্লাবের পৌঁছাতে না পারাকে তিনি এই দুর্বলতারই প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ইতালি তাদের প্রধান কোচ জেন্নারো গাত্তুসোকে বরখাস্ত করেছে। নতুন কোচ হিসেবে আন্তোনিও কন্তের ফেরার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে, ইতালীয় হয়েও আনচেলত্তি এবার উত্তর আমেরিকায় পা রাখবেন ব্রাজিলের কোচ হিসেবে, যেখানে তাঁর লক্ষ্য থাকবে সেলেসাওদের হয়ে ষষ্ঠ শিরোপা জয়।
ইতালি ১৯৩০ এবং ১৯৫৮ সালের পর ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ইতিহাসে মাত্র দুইবার বিশ্বকাপ মিস করেছিল। কিন্তু ২০১৮, ২০২২ এবং এখন ২০২৬- টানা তিনবার বিশ্বমঞ্চে না থাকা আজ্জুরিদের ফুটবলে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। আনচেলত্তির এই বিশ্লেষণ যদি ইতালীয় ফুটবল কর্তারা আমলে না নেন, তবে বিশ্বমঞ্চে আজ্জুরিদের ফেরা আরও প্রলম্বিত হতে পারে।
তথসূত্র: বেইন স্পোর্টস
