পিসিবির অবস্থানে ক্ষুব্ধ পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেট কর্তারা!

বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ প্রত্যাহার বা বয়কটের যে সম্ভাবনা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তৈরি করেছে, তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন সরকারের হাতে থাকলেও সাবেক কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এমন বয়কট আইসিসির  সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কের অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে।

নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে ভারতের বাইরে বাংলাদেশের সব ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার যে দাবি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড করেছিল, আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে। পিসিবি ছিল একমাত্র বোর্ড যারা আইসিসির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। কোনো পক্ষই নমনীয় না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আইসিসি বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকেই সরিয়ে দেয়।

এর প্রতিক্রিয়ায় পিসিবি আইসিসির বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ আনে এবং বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বকাপ বয়কট করার ইঙ্গিত দেয়। পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সাথে দেখা করেছেন। পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে নাকি নাম প্রত্যাহার করে নেবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে তিনি আগামী শুক্রবার বা সোমবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।

তবে, আইসিসি ইভেন্ট বয়কট করার এই যুক্তিতে প্রশ্ন তুলেছেন পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান খালিদ মাহমুদ এবং সাবেক সচিব আরিফ আলি আব্বাসি। বলেন, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো প্রশংসনীয় হলেও বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিটা পাকিস্তান ক্রিকেটেরই হবে।

আব্বাসি বলেন, বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের বিষয়টি বুঝতে পারছি, কিন্তু আইসিসি এবং অন্যান্য সদস্য দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক নষ্ট করা ছাড়া বিশ্বকাপে দল না পাঠিয়ে পিসিবি আসলে কী অর্জন করবে?

জগমোহন ডালমিয়া এবং আই.এস. বিন্দ্রার মতো প্রশাসকদের সময়ে দায়িত্ব পালন করা আব্বাসি আরও উল্লেখ করেন, এই বয়কট শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচসহ পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তান না গেলে আয়োজক হিসেবে শ্রীলঙ্কা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।

খালিদ মাহমুদ পিসিবির সদিচ্ছাকে সমর্থন করলেও বোর্ডকে বাস্তববাদী হওয়ার এবং পাকিস্তানের স্বার্থকে সবার আগে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে যে, পাকিস্তান ছাড়া অন্য কোনো দেশ ভারতের বাইরে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশকে সমর্থন দেয়নি। আমি বাংলাদেশের অবস্থান বুঝতে পারি, কিন্তু সত্য এটাই যে আইসিসি সভায় তারা কোনো সমর্থন পায়নি।