বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দারুণ ছন্দে থাকা দুই ইউরোপিয়ান পরাশক্তি স্পেন ও বেলজিয়াম এবার মুখোমুখি হচ্ছে কোয়ার্টার-ফাইনালের মহারণে। টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট স্পেনকে হারিয়ে বড় চমক দেখানোর সামর্থ্য রয়েছে বলে বিশ্বাস করেন বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তার মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রেড ডেভিলসরা নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরছে।
সোমবার সিয়াটলে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে হারানোর পর সাংবাদিকদের কোর্তোয়া বলেন, আমাদের দলের সবাই বিশ্বাস করে, এটা সম্ভব। আমার মনে হয় আমাদের দলে এমন মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে, যাদের ব্যাপারে স্পেনকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি টুর্নামেন্টেই চমক থাকে—চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইউরোপা লিগ কিংবা বিশ্বকাপ, সবখানেই অপ্রত্যাশিত ফল দেখা যায়। আমি মনে করি, আমরাও সেই চমকগুলোর একটি হতে পারি। ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করে দিতে পারলে সেটি অবশ্যই বড় অঘটন হবে। আমাদের সেই আত্মবিশ্বাস রয়েছে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অবশ্য খুব একটা ছন্দে ছিল না বেলজিয়াম। মিসর ও ইরানের বিপক্ষে ড্র করার পর শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় তারা।
শেষ ষোলোতেও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল রেড ডেভিলসরা। সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল তারা। সেখান থেকে দারুণ প্রত্যাবর্তনে সমতায় ফিরে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। পরে শেষ মুহূর্তের একটি পেনাল্টি থেকে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠে বেলজিয়াম।
কোর্তোয়ার ভাষায়, অনেকে আমাদের পারফরম্যান্সে হতাশ হয়েছিল। কিন্তু আমরা সেই ধারণা বদলে দিয়েছি। আমরা ধীরে ধীরে আরও ভালো খেলছি। অবশ্যই স্পেনই ফেভারিট। বল দখলে তারা অসাধারণ, আর বল হারালেই খুব দ্রুত প্রেসিং শুরু করে। তাদের রক্ষণভাগের পেছনের ফাঁকা জায়গাগুলো কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে, সোমবার শেষ ষোলোয় পর্তুগালের বিপক্ষে ৯১তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়ে শেষ আটে জায়গা করে নেয় স্পেন।
স্পেনের শক্তির প্রশংসা করতেও কার্পণ্য করেননি কোর্তোয়া। তিনি বলেন, পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে করা গোলটিই স্পেনের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ। আর লামিন ইয়ামাল তো অসাধারণ প্রতিভাবান। সে খুব দ্রুতগতির, চটপটে এবং একাই দুইজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ওঠার সামর্থ্য রাখে।
স্পেনের ফুটবল সম্পর্কে কোর্তোয়ার ধারণা বেশ গভীর। কারণ, তিনি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দীর্ঘদিন খেলেছেন এবং প্রায় ১১ বছর ধরে স্পেনে বসবাস করছেন।
তিনি বলেন, আমি ১১ বছর ধরে স্পেনে আছি। সেখানে জীবনযাত্রার গতি কিছুটা ধীর, আবহাওয়াও দারুণ। তবে শেষ পর্যন্ত আমি একজন বেলজিয়ানই। স্পেন আমার দ্বিতীয় বাড়ি, আর সম্ভবত খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পরও আমি সেখানেই থাকব।
কোর্তোয়া আরও বলেন, আমার দুটি সন্তান আছে, যারা স্বাভাবিকভাবেই বেলজিয়ানের চেয়ে বেশি স্প্যানিশ। কিন্তু আগামীকালের ম্যাচে আমার হৃদয় শুধুই বেলজিয়ামের জন্য।