বিশ্বকাপ ক্রিকেটে কোন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানই হলো না!

বিশ্বকাপ! তা সেই ফুটবল হোক কি ক্রিকেট, শুরুটা হয় বেশ জমকালো আয়োজন দিয়ে। বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসরের ইতিহাসে জমকালো উদ্বোধনের বিষয়টি খুব বেশিদিনের নয়। তারপরও সবশেষ আয়োজনে দেখা গেছে বেশ ঘটা করে ব্যাপক নাচাগানা আর আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পর্দা উঠেছে।

এবার ভারতের মাটিতে হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, তেমনই জমকালো হবে বলে আগে থেকেই বাদ্য বাজাচ্ছিলো আয়োজকরা। সময় ঘনিয়ে আসতে আসতে সেই আওয়াজও বাতাসে মিলিয়ে গেলো। বাতিল করা হলো সব জমকালো আয়োজন।

তবে, বুধবার ভারতের আহমেদাবাদের মোতেরাতে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে থাকছে ‘ক্যাপ্টেন্স ডে’ নামের পোশাকি ইভেন্ট। দশ দলের অধিনায়ক আনুষ্ঠানিক প্রেস কনফারেন্স ও ছবি তোলার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন। একই মাঠে বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে বিশ্বকাপ।

এরআগে একাধিক প্রচারমাধ্যমে বলা হচ্ছিলো রণবীর সিং, তামান্না ভাটিয়া, শ্রেয়া ঘোষাল, শঙ্কর মহাদেবন, অরিজিৎ দের নিয়ে ধুমধড়ক্কা উদ্বোধন হবে। অথচ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড জানালো, এবার কোনও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানই হবে না। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে কোনও পরিকল্পনাই ছিলো না।

কিন্তু কেন আয়োজন করা গেল না উদ্বোধন অনুষ্ঠানে, এমন প্রশ্নের জবাবে বোর্ডের খোড়া যুক্তি, পাঁচ অক্টোবর থেকে খেলা শুরু তাই আগের দিন উদ্বোধন সম্ভব নয়। তাছাড়া দুপুরে উদ্বোধনী করলে লেজারলাইটের আলো দেখা যাবে না। এছাড়াও সময়ের স্বল্পতার জন্য পুরো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকেই বাতিলের খাতায় ফেলা হয়েছে।

wc_captains

এমনিতেই, এবারের বিশ্বকাপে আয়োজনে জয় শাহের বোর্ড অনেক ক্ষেত্রেই সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। সূচি বদলাতে হয়েছে একাধিকবার। মোহালির মত আইকনিক ভেন্যুতে কোন ম্যাচ নেই। টিকেট নিয়ে এখনো চলছে অসন্তোষ। হায়দারাবাদে পাকিস্তান খেলবে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে। দায়সারা গোছের আয়োজন।

এ নিয়ে চতুর্থবার বিশ্বকাপের স্বাগতিক হচ্ছে ভারত। জৌলুসপূর্ণ আয়োজন, ব্যাপকতা আর ব্যপ্তিতে অন্য আসরগুলোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বিসিসিআইয়ের। কিন্তু শুরুতেই গলদ। শোনা গিয়েছিল উদ্বোধনীতে বিশ্বকে চমকে দিবে তারা। কিন্তু সময় আসতেই সব কথা হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো।

বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকাল তিনটার দিকে অধিনায়কদের মিটিং হয়েছে। সেখানে কুশলাদি বিনিময় করেছেন সাকিব আল হাসান-জস বাটলার, রোহিত শর্মারা। যা সরাসরি সম্প্রচার করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। এরপর চলে ফটোসেশন আর প্রথম ম্যাচের সংবাদ সম্মেলন।

বৃহস্পতিবার আহমেদাবাদের এই নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামেই উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ২০১৯ বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড।

wc_trophy_1

চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত ৫০ ওভারের এই বিশ্বকাপ প্রথমবার আয়োজিত হচ্ছে ভারতে। শুনতে অবাক হলেও আসলেও তাই। এরআগে ভারতে একাধিকবার বিশ্বকাপের আসর বসলেও, প্রতিবারেই সঙ্গী-সাথী ছিলো। আর এবারই প্রথম পুরোপুরি এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত।

১৯৮৭ সালে প্রথমবার ভারত বিশ্বকাপ আয়োজকের তালিকায় নাম লেখায়, সেবার সঙ্গী পাকিস্তান। এরপর ১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপ বসে উপমহাদেশের তিন দেশ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায়। ২০১১ সালে প্রথমবার আয়োজক হয় বাংলাদেশ, সেবারও তিন দেশ- বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কা মিলে আসর আয়োজন করে।

আর এর এক যুগ পরে ও বিশ্বকাপ শুরুর ৪৮ বছর পর এসে এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেল ভারত। বিশ্বকাপের ১৩তম আসর বসছে ভারতের মোট দশটি স্টেডিয়ামে। এই বিশ্বকাপ তাই কারো কারো কাছে ভারত ভ্রমণও। ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি, আবহাওয়া ও বৈচিত্র্যের সঙ্গে পরিচিত হবার দারুণ এক সুযোগ।