খেলা শুরুর আগেই সমালোচনার মুখে বিসিসিআই

তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে আধুনিক ক্রিকেট দুনিয়ার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে দক্ষিণ এশিয়া। আর এবার এককভাবে আয়োজক দেশ ভারত বলেই এই আসরকে ঘিরে প্রত্যাশা অনেক বেশি। কিন্তু খেলা শুরুর আগেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে দেশটির ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিসিআই।

পাক্কা এক যুগ পর এশিয়াতে ফিরেছে ওডিআই বিশ্বকাপ, এর আগের আসরটা ছিল ২০১১ সালে, এবারের আয়োজক ভারতও সেবার ছিল হোস্ট নেশন, তবে এককভাবে নয়, কো-হোস্ট হিসেবে ছিল বাংলাদেশ আর শ্রীলংকাও। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দায়িত্বে ছিল বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সেই গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের কথা নিশ্চয় মনে আছে, যেখানে উঠে এসেছিল দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি। 

১২ বছর পর সেই দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় দেশে বিশ্বকাপ ফিরলেও এবারে থাকছে না কোনো উদ্বোধনি অনুষ্ঠান। যে কারণেই হতাশ হয়েছেন এই অঞ্চলের অনেক ক্রিকেট ক্রেজি মানুষ। আইপিএলে প্রতিবার বলিউড তারকায় ঠাসা জমকালো উদ্বোধন হলেও বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে তেমন কিছু ভাবেনি বিসিসিআই। অবশ্য আছে ক্যাপ্টেনস ডে, যেখানে ফটোশুটের পাশাপাশি প্রেস কনফারেন্সের বন্দোবস্ত। ওপেনিং সেরিমনি না থাকার হতাশা আরও বেড়েছে, যখন জানা গেছে প্রথম ম্যাচে খেলছে না স্বাগতিক ভারত। রোহিত শর্মাদের খেলা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে পাঁচ নম্বর ম্যাচ ডে পর্যন্ত। 

২০২৩ বিশ্বকাপকে ঘিরে সমালোচনার এটা একটা অংশ কেবল। এই মুহূর্তে আয়োজকরা তীব্র সমালোচনার শিকার আহমেদাবাদ স্টেডিয়ামের একটি ভাইরাল ভিডিও নিয়ে। যেখানে দেখা যায়, ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের উদ্বোধনী ম্যাচের অল্প ক’দিন বাকি থাকলেও নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের গ্যালারির অবস্থা যাচ্ছেতাই। সেটা দেখেই ভারতের দর্শকরাই ফেটে পড়েছে ক্ষোভে। দাবি উঠেছে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট রজার বিনি আর সেক্রেটারি জয় শাহ যেন এবারের বিশ্বকাপ এই সিটগুলোর একটাতে বসেই উপভোগ করেন।

অবশ্য নানা ধরনের সমালোচনা শুরু হয়েছে বেশ আগে থেকেই। প্রথম জটিলতা তৈরি হয় ফিকশ্চার ইস্যুতে। যেটা বিসিসিআই প্রকাশ করে জুনের ২৭ তারিখ, টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র ১০০ দিন আগে। দুই মাস আগে সেটা আবার রিশিডিউল করা হয়। পরিবর্তন হয় হাই ভোল্টেজ ভারত-পাকিস্তান লড়াইসহ ৯ ম্যাচের সূচী। যেখানে গেল দুই আসরেরের সূচি প্রকাশ করা হয়েছিল এক বছরের বেশি সময় আগে।

রিশিডিউলের জটিলতায় অনেকেই বিমানের টিকেট জটিলতায় পড়েছেন, কেউ ডাবল দামে প্লেনের টিকেট পাল্টাতে পারলেও নতুন শিডিউলের ম্যাচ টিকেট জোগাড় করতে পারেননি। কারণ এবারের টিকেটিং সিস্টেমও করা হয়েছিল বেশ জটিল। আর বিক্রিও হচ্ছে চড়া দামে। ৪৯৯ রূপে থেকে শুরু হয়ে অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে ছিল ৪০ হাজার রুপি মূল্যের টিকেটও। তবে রিসেলারের কাছে ভারত পাকিস্তান ম্যাচের টিকেটের দাম ছাড়িয়েছে তিন লাখ ডলার পর্যন্ত, বাংলাদেশি টাকায় যেটা প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার মতো।

চড়া দাম কেবল টিকেটে না হোটেল, যাতায়াত, সবখানে খরচ করতে হবে মোটা টাকা। আর সেকারণেই খোদ ভারতীয়দের মধ্যে রয়েছে বড় আকারের অসন্তোষ।