বিশ্বকাপে দুই ম্যাচ শেষ। ফলাফল দুই রকম। কিন্তু কিছু দুশ্চিন্তা আছে, সময়ের সাথে সাথে যা বাড়ছে বৈ কমছেই না। প্রশ্ন উঠছে বিশ্বকাপে স্বপ্নের বেলুন ফুলিয়ে যাওয়া দলটা এবার কতদূর যাবে? পর্দার সামনে টাইগারদের ব্যাটিং ব্যর্থতা কি নিছকই রানের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ, না এর পেছনে আছে ঘটনার দীর্ঘ প্রবাহ।
দাবার চাল দেবার পালা, কিন্তু দিতে গিয়েও পিছিয়ে আসা। মাথায় হাত, এবারের বিশ্বকাপে হতে না হয় কিস্তিমাত। ধর্মশালা থেকে চেন্নাই যাবার পথে সাকিব আর মিরাজের দাবা খেলার ছবি এখন ভাইরাল।
এই শর্টটাইম জার্নিতে কে জিতেছে, তা জানা না গেলেও, মাঠের খেলায় বাংলাদেশ আর কয়টা ম্যাচ জিতবে তা নিয়ে শুরু হয়ে গেছে আলোচনা। কেনো এই বিশ্লেষণ সেটারও আছে যৌক্তিক কারণ।
পয়েন্ট নাম্বার ওয়ান: বাংলাদেশের ব্যাটিং রাখতে পারছে না মান
আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়েছে বাংলাদেশের। কিন্তু ম্যাচ জেতা আর ডমিনেট করে জেতা যে এক নয়, সেটা কি সাকিবরা অনুধাবন করতে পেরেছেন?
১৫৬ রান চেজ করতে নেমে ঐ ম্যাচে বাংলাদেশকে হারাতে হয়েছে ৪ উইকেট। খেলতে হয়েছে প্রায় ৩৫ ওভার। অর্থাৎ বাংলাদেশের ব্যাটাররা ওভার প্রতি রান তুলেছেন মাত্র চার করে। তানজিদ তামিম, লিটন, সাকিবদের ব্যাটিংয়ে ইম্প্যাক্ট তো দূর পরের ম্যাচের জন্য যে ইন্টেন্ট তৈরি করার ব্যাপার থাকে-সেটাও তারা করতে পারে নি। যার ফলাফল ইংল্যান্ড ম্যাচেই দৃশ্যমান।
পয়েন্ট নাম্বার দুই: ব্যাটিং অর্ডারে হইচই
বিশ্বকাপে যাবার আগে তামিমকে মিডল অর্ডারে খেলানোর যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, তখন স্পষ্ট হয়ে যায়- এবারের আসরে বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে নেই স্পষ্ট কোন পরিকল্পনা। ফলাফল দুই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপ পুরোটাই এলোমেলো।
প্রথম ম্যাচে শান্ত চারে তো পরের ম্যাচে তিনে, সাকিব প্রথম ম্যাচে পাচে তো পরের ম্যাচে চারে, মিরাজ প্রথম ম্যাচে তিনে, পরের ম্যাচে পাচে। এমনকি যে তাওহীদ হৃদয়কে গোটা বছর চার আর পাচে খেলানো হলো-সেই হৃদয় বিশ্বকাপে খেলছেন সাত নম্বরে। এক কথায় যাতা অবস্থা।
পয়েন্ট নাম্বার থ্রি: ৫০ ওভার ব্যাটিংয়ের মানসিকতা নেই
এ বছর বাংলাদেশ যে ১৯ ম্যাচ খেলেছে সেই ১৯টা ম্যাচের ১১ টাতেই টাইগাররা ব্যাট করতে পারে নি পুরো ৫০ ওভার। এমন ঘটনার পেছনে আছে বেশ কিছু কারণ।
প্রথমত ঘনঘন ব্যাটিংয়ে শাফল আনা, ব্যাটারদের দীর্ঘমেয়াদী স্থির পরিকল্পনা না থাকা, সিনিয়রদের ঝামেলায় জুনিয়রদের প্যানিকড হওয়া এবং ঘরের মাটিতে বারবার জিততে থাকায় নিজেদের সক্ষমতা সম্পর্কে ভুল আত্মবিশ্বাস জন্ম নেয়া।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারলেও এখন বাংলাদেশের সামনে আছে আরও সাত ম্যাচ। অল্প সময়ে সব ঠিক হয়ে গেলে সেমি ফাইনাল যেমন সম্ভব, একইভাবে ঠিক না হলে নেদারল্যান্ডসের কাছে হারাও অসম্ভব কিছু নয়।