বিশ্বকাপের আগে বাংলার পেস অ্যাটাক ভেসেছে নানা ধরনের স্তুতিবাক্যে। কিন্তু মূল লড়াইটা শুরুর পরেই যেন তাসকিনদের পারফরমেন্স চুপসে গেছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে টাইগারদের যে পারফরমেন্স সেখানে লিড করছে স্পিনাররা। আবার তিন ম্যাচ খেলে ফেললেও পেস অ্যাটাকে পরিবর্তনের দিকে যায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। ভারত ম্যাচের আগে বাংলার পেস আক্রমণে কেমন পরিবর্তন আসতে পারে?
আগুনের ওপরে হেঁটে সেই তাপকে দিব্বি হজম করতে পারেন তাসকিন আহমেদ। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে ভারতের উইকেটের উত্তাপ যেন সইছে না টাইগার পেস অ্যাটাকের লিডিং পজিশনে থাকা এই বোলারের। জাতে স্ট্রাইকিং বোলার হলেও এখন পর্যন্ত খেলা তিন ম্যাচে উইকেটে পেয়েছেন মোটে দুটো।
তাসকিনের একার ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে লাভ নেই। কারণ টোটাল পেস সেটআপ নিয়ে নামলেও প্রতিপক্ষের পয়লা উইকেট নিতে হচ্ছে সাকিবকে এসে। চলতি বিশ্বকাপে তিন পেসার তিন ম্যাচে বল করে পেয়েছেন ৯ উইকেট। শরিফুলই খানিকটা ঝলক দেখালেও কারো গড়ই সুবিধাজনক না। অথচ বিশ্বের অন্যতম সেরা পেস আক্রমণ নিয়েই ওয়ার্ল্ডকাপ খেলতে গেছে টাইগাররা।
বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশি পেসারদের পারফরমেন্সে নজর বুলালেই প্রমাণ মিলবে স্পষ্ট। বিশ্বকাপের আগে ২০২৩ সালে তাসকিন ছিলেন টাইগার পেসারদের মধ্যে হায়েস্ট উইকেট টেকার। তালিকায় শরিফুল-মোস্তাফিজ থাকলেও তাদের টপকে এই টাইমস্প্যানে সেকেন্ড হায়েস্ট উইকেট শিকারি ছিলেন হাসান মাহমুদ। যদিও বিশ্বকাপে পেস ব্যাটারির নড়বড়ে, তবু তাকে একাদশে ফেরায়নি টাইগার ম্যানেজমেন্ট।
তার কারণ একটা হতে পারে, হাসান মাহমুদ উইকেট বেশি নিলেও তার সিংহভাগ এসেছে দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে। ওডিআই ক্যারিয়ারে বড় দল বলতে খেলেছেন কেবল ভারত, পাকিস্তান আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, যাদের মধ্যে কেবল দুই উইকেট পেয়েছেন। সেই ম্যাচের গড়ও সুবিধাজনক নয়।
সেদিক থেকে বিবেচনায় জুনিয়র সাকিবকে নিয়ে ভাবতেই পারে সাকিব-হাথুরু। তাকে দিয়েই প্রতিপক্ষকে চমকে দেয়ার ছক কষতে পারে দল। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে বিবেচনার জন্য তানজিম সাকিবের ক্ষেত্রে স্ট্যাট নেই তেমন। তবে যে দুই ওয়ানডে খেলেছেন তার একটা ভারতের বিপক্ষে, এশিয়া কাপের ম্যাচে, টাইট ইকোনমিতে দুই উইকেট তুলে নিয়ে নজর কেড়েছিলেন।
জুনিয়র সাকিবকে সিনিয়র জন নিজের একাদশে বিবেচনা করবেন কি-না, এখনই সেই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। সে সাথে ভারতের বিপক্ষে পেসাররা জ্বলে উঠবে, নাকি আবারও হাল ধরতে হবে স্পিনারদের সেই প্রশ্নের উত্তরও অজানা। তবে একটা বিষয় জানা আছে, পুনেতে ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে ৩৫৬ রান তোলার রেকর্ড আছে টিম ইন্ডিয়ার, যেটা ওয়ানডেতে এই মাঠের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর।