বড় ব্যবধানে হারলেও প্রাপ্তি মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরি

দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষেই বাংলাদেশের হার অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। সহজ জয়ের অপেক্ষায় ছিল প্রোটিয়ারাও, কিন্তু বাধ সাধেন মাহমুদউল্লাহ। ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে নান্দনিক শটে লড়াই চালিয়ে যান তিনি। ১১১ বলে ১১১ রানের ইনিংস খেলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটার। 

লড়াই জমিয়ে তুলতে পারেননি সাকিব আল হাসানরা। একশ করার আগেই ৬ উইকেট হারানোর পর রেকর্ড ব্যবধানে হার চোখ রাঙাচ্ছিল তাদের। 

কিন্তু প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সফল হন ডানহাতি ব্যাটার মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে হেরেই গেছে, ১৪৯ রানের বড় ব্যবধানে। কিন্তু তাতে শোভা ছড়ানো এক ইনিংস খেলেন মাহমুদউল্লাহ।

তাকে উপযুক্ত সঙ্গ দেন টেল এন্ডে থাকা নাসুম আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। নবম উইকেটে ৬৮ রানের সেরা জুটি গড়েন মোস্তাফিজ ও মাহমুদউল্লাহ। নবম ব্যাটার হিসেবে তিনি আউট হন। তারপর মোস্তাফিজ আউট হতেই ৪৭তম ওভারে ২৩৩ রানে অলআউট বাংলাদেশ।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন জেরাল্ড কোয়েটজে। দুইটি করে পান মার্কো ইয়ানসেন, কাগিসো রাবাদা ও লিজাড উইলিয়ামস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ৪৬.৪ ওভারে ২৩৩/১০ (শরিফুল ৬*, মোস্তাফিজ ১১, মাহমুদউল্লাহ ১১১, হাসান ১৫, নাসুম ১৯, মিরাজ ১১, লিটন ২২, মুশফিক ৮, সাকিব ১, তানজিদ ১২, শান্ত ০)

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ১৪৯ রানে জয়ী।

batters_SA

টাইগারদের ৩৮৩ রানের লক্ষ্য দিলো প্রোটিয়ারা

টস জিতে আগে ব্যটিংয়ে নেমে প্রোটিয়ারা কুইন্টন ডি ককের ঝড়ো সেঞ্চুরির সঙ্গে এইডেরন মারক্রাম ও হাইনরিখ ক্লাসেনের ব্যাটিং তাণ্ডবে ৩৮২ রান করছে ৫ উইকেটে। টাইগারদের সামনে ৩৮৩ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য।

এই বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচের চারটিতে আগে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা সবগুলোতেই তিনশ ছাড়ালো। শুধু নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পরে ব্যাটিং করে সেই ম্যাচে হার মানে প্রোটিয়ারা। তাই বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান চাইছিলেন, তিনি যেন টসে জেতেন। তার চাওয়া পূরণ হয়ণি।

৩৬ রানের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ২ উইকেট তুলে নিয়ে দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। মারক্রাম ও ডি কক ১৩১ রানের জুটি গড়ে ওই ধাক্কা সামাল দেন। বাংলাদেশের বোলাররা প্রোটিয়াদের ওপর চাপ তৈরি করেছিল। ৩৬তম ওভারে তারা ২০০ তে পৌঁছায়। মারক্রাম ৬০ রানে সাকিবের শিকার হওয়ার পর শুরু হয় তাণ্ডব।

মাত্র ৪৯ বলে দুইশ থেকে তিনশতে পৌঁছায় দলীয় স্কোর। ডি কক ১৪০ বলে ১৫ চার ও ৭ ছয়ে ১৭৪ রান করে ডেথ ওভারের মাঝের দিকে থামেন। শেষ ১০ ওভারের মধ্যে সাকিব, শরিফুল ও মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর চড়াও হন দুই ব্যাটার। ক্লাসেন শেষ ওভারে সেঞ্চুরির  খুব কাছে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আউট হন। ৪৯ বলে ২ চার ও ৮ ছয়ে ৯০ রান করেন তিনি। শেষ দিকে ডেভিড মিলারের ১৫ বলে ১ চার ও ৪ ছয়ে ৩৪ রানের ক্যামিও ইনিংস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।  

দুটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে সফল বোলার হাসান মাহমুদ, অবশ্য ৬ ওভারে ৬৭ রান দিয়ে সবচেয়ে ইকোনমি রেট তার, ১১.১৬। রানের হিসাবে সবচেয়ে বেশি খরুচে ছিলেন শরিফুল ও মোস্তাফিজ। দুজনেই ৯ ওভার বোলিং করেন, দেন ৭৬ রান করে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকা ৫০ ওভারে ৩৮২/৫ (ইয়ানসেন ১*, মিলার ৩৪*, হাইনরিখ ক্লাসেন ৯০, ডি কক ১৭৪, হেন্ড্রিকস ১২, ফন ডার ডুসেন ১, এইডেন মারক্রাম ৬০)

bangladesh3

বড় সংগ্রহের পথে দক্ষিণ আফ্রিকা

তিন উইকেট হারিয়ে ৩৫ ওভারে প্রোটিয়াদের সংগ্রহ ১৯৬ রান। শুরুতে ৩৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়া দলের হাল ধরেন ডি কক ও মার্করাম। পরে তাদের জুটি ভাঙেন সাকিব। এরপর মার্করামের সাথে তাল মিলিয়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নিচ্ছেন হাইনরিখ ক্লাসেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: দ. আফ্রিকা: ১৯৬/৩ (৩৫)।

ডি কক-মার্করামের জুটি ভাঙলেন সাকিব

sakib

ডি কক ও মার্করামের জুটি ভেঙেছে ১৩১ রানে সাকিবের বলে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মার্করামকে ফিরিয়ে উইকেটের দেখা পেল বাংলাদেশ।

ম্যাচ এখন প্রোটিয়াদের নিয়ন্ত্রণে!

bangladesh3

বাংলাদেশ ভালো শুরু করলেও খেলার নিয়ন্ত্রণ এখন অনেকটাই দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে। ৩৬ রানে ২ উইকেট হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন ডি কক-মার্করাম।

ডি কক-মার্করামের ১০০ রানের জুটি

bangladesh2

৩৬ রানে ২ উইকেট হারানো দক্ষিণ আফ্রিকার হাল ধরেছেন কুইন্টন ডি কক এবং এইডেন মার্করাম। ১০০ রানের জুটি গড়েছেন দু’জন। ম্যাচে এখন প্রোটিয়াদের নিয়ন্ত্রণ।

চাপ সামলে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা

শুরুর উইকেটের চাপ সামাল দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন কুইন্টন ডি কক এবং এইডেন মার্করাম। ২১ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ১০৪।

৪৭ বলে ডি ককের ৫০

de-kock

দক্ষিণ আফ্রিকার বাঁহাতি ওপেনার কুইন্টন ডি কক ৪৭ বলে করেছেন ৫০ রান। একই সঙ্গে এইডেন মার্করামের সঙ্গে তার জুটির পঞ্চাশ হলো ৫৮ বলে।

১৪ থেকে ১৮, চার ওভারে এসেছে ৩২ রান

ডি ককের ৫০ রান পূর্ণ হয়েছে। ১৪ থেকে ১৮, শেষ চার ওভারে এসেছে ৩২ রান। হাসানের প্রথম ২ ওভারে এসেছে ২২ রান। সর্বশেষ ৪ ওভারে রানের গতি বাড়ানোর আভাস দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, যদিও মাঝে একটু আঁটসাঁট করেছিলেন নাসুম আহমেদ।

১১ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৫০

bangladesh

প্রথম পাওয়ারপ্লে শেষ। ১১ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৫০। এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সফলতম প্রথম ১০ ওভার এটি। আগের ৪ ম্যাচে প্রতিপক্ষের স্কোর ছিল এমন -আফগানিস্তান (৫০/১), ইংল্যান্ড (৬১/০), নিউজিল্যান্ড (পরে ব্যাটিং) (৩৭/১), ভারত (পরে ব্যাটিং) (৬৩/০)।

মোস্তাফিজ, মিরাজের পর সাকিব প্রথম ১০ ওভারে করিয়েছেন শরীফুলকে দিয়ে।

মিরাজের ঘূর্ণিতে ডুসেন বোল্ড

bangladesh1

অফ স্টাম্পের দিকে সরে গিয়ে লেগ সাইডে ঘুরিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন ফন ডার ডুসেন। তবে যেভাবে ভেবেছিলেন, মিরাজের বল ততোটা ওঠেনি। এ ভুলের চড়া মাশুল দিতে হলো তাকে। আম্পায়ার জোয়েল উইলসন সময় নিয়ে এলবিডব্লু দিয়েছেন, যে সিদ্ধান্ত রিভিউ করেননি ফন ডার ডুসেন।

হেনড্রিকসকে ফেরালেন শরিফুল

out

অবশেষে পাওয়ারপ্লেতে উইকেট মিললো বাংলাদেশের। শরীফুলের বলে বোল্ড হেন্ডরিকস। ১৯ বলে ১২ রান করে ফিরে গেছেন তিনি।

বিশ্বকাপে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি বাংলাদেশ। মঙ্গলবারের ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

মুম্বাইয়ের ব‍্যাটিং স্বর্গে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট পেতে পারতো বাংলাদেশ। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ক‍্যাচ নিতে পারেন নি তানজিদ হাসান।

হেন্ডরিকসকে বোল্ড করার পর শরীফুলের নাচ। ছবি: ক্রিকইনফো

প্রথম ওভারটি করেন মুস্তাফিজুর রহমান। কুইন্টন ডি ককের চারে দক্ষিণ আফ্রিকা করে ৬ রান। পরের ওভারে মিরাজকে আক্রমণে আনেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সুযোগ তৈরিও করেছিলেন অফ স্পিনার কিন্তু ফিল্ডারের ব‍্যর্থতায় হাতছাড়া হয়ে যায়।

বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, শরীফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ।

toss1

দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ: রিজা হেন্ডরিকস, কুইন্টন ডি কক, রেসি ফন ডার ডুসেন, এইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), হাইনরিখ ক্লাসেন, ডেভিড মিলার, মার্কো ইয়ানসেন, জেরাল্ড কোয়েৎজি, কেশব মহারাজ, লুঙ্গি এনগিডি, কাগিসো রাবাদা।

কী বলে পরিসংখ্যান?

bangladesh

আগের ২৪ ম্যাচের পরিসংখ্যানে প্রোটিয়ারা জয় পেয়েছে ১৮ ম্যাচে। বিপরীতে বাংলাদেশের জয় মাত্র ছয় ম্যাচে। যদিও বিশ্বকাপে দুই দলের জয়ের সংখ্যা সমানে সমান।

২০০৭ এবং ২০১৯ বিশ্বকাপে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আর ২০০৩ সালে ও ২০১১ সালে জয়ের হাসি হেসেছিল প্রোটিয়ারা।

অবশ্য শেষ ৪ ম্যাচের ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলছে। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদেরই ঘরের মাঠে সিরিজ হারিয়েছিল বাংলাদেশ।