জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে টানা উত্তেজনা শেষে পাঁচ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। সিরিজ নিশ্চিতের পর এই জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পাঁচ ম্যাচ সিরিজের ৪-০ তে এগিয়ে গেলো। আর একাদশে ফিরেই বাজিমাত করলেন আইপিএল ফেরত মুস্তাফিজুর রহমান।
এদিন পাওয়া প্লের আগেই তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া জিম্বাবুয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ের গন্ধ পেলেও বহু কাঙ্খিত জয় আর পায়নি।
শেষ ওভারে ছয় বলে যখন ১৪ রান দরকার, তখন আক্রমণে আসেন সাকিব আল হাসান। ২০তম ওভারের তৃতীয় বলে সাকিবকে মাজুরাবানি বিশাল এক ছক্কা হাঁকালে কেঁপে ওঠে মিরপুর। চতুর্থ বলে মাজুরাবানি স্টেপ আউট করলে ওয়াইড ডেলিভারি করেন সাকিব। এই সুযোগে স্ট্যাম্প উপড়ে দেন জাকের আলী।
জিম্বাবুয়ের দুই বলে তখন দরকার পাঁচ রান। ওই ওভারের চতুর্থ বলে এনগারাভাকে ক্লিন বোল্ড করেন তিনি। অবশিষ্ট কোনো উইকেট আর না থাকায় জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।
এর আগে ইনিংসের মাঝপথে ক্যাম্পবেল (৩১), মাদান্দে, রায়ান ব্রুল (১৯) এবং টেল এন্ডে মাসাকাদজারা (১৯) জয়ের সম্ভাবনা দেখালেও তাতে জল ঢেলে দেন আইপিএল ফেরত মুস্তাফিজুর।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সাকিব আল হাসান চারটি, মুস্তাফিজুর রহমান তিনটি, তাসকিন আহমেদ দুটি এবং রিশাদ হোসেন একটি উইকেট নেন।
প্লেয়ার অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান।
তাসকিনের জোড়া আঘাতে বিপদে জিম্বাবুয়ে
বাংলাদেশের মিডল অর্ডারে হতশ্রী ব্যাটিংয়ের পর জিম্বাবুয়ের ইনিংসের শুরুতেই জোড়া আঘাত হেনেছেন তাসকিন আহমেদ। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই তুলে নিয়েছেন ওপেনার বেননেটসহ জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজার উইকেট। অপরদিকে আরেক ওপেনারকে ফিরিয়েছেন সাকিব আল হাসান।
জিম্বাবুয়ের ইনিংসের চতুর্থ বলে তাসকিনের অফ স্ট্যাম্পের বাইরের একটি বাউন্স বেননেট পুল করতে গেলে তা সরাসরি চলে যায় সাকিবের হাতে। ফলে রানের খাতা না খুলতেই সাজঘরে ফেরেন তিনি।
ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে আসেন কাপ্তান সিকান্দার রাজা। শুরুতে আক্রমণাত্মক না হলেও দর্শনীয় শট খেলতে থাকেন তিনি। কিন্তু তাসকিনের করা চতুর্থ ওভারের শেষ বলটি যে ইনসুইং ছিল তার বুঝে উঠতে পারেননি রাজা। বলটি বাঁক নিয়ে উপড়ে দেয় মিডল স্ট্যাম্প। ১০ বলে ১৭ রানে শেষ হয় তার ইনিংস। জিম্বাবুয়ের স্কোর তখন চার ওভার শেষে দুই উইকেট হারিয়ে ২৮ রান।
পরের ওভারের চতুর্থ বলে নিয়মিত আক্রমণে থাকা সাকিবও পান উইকেটের দেখা। আরেক ওপেনার মারুমানিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি।
পাওয়া প্লে শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় তিন উইকেটে ৩৮ রান। ক্যাম্পবেল এখনও রানের খাতা খুলতে না পারলেও সাত রানে ব্যাট করছেন মাদান্দে।
তামিম-সৌম্যের পর এলো ৩৫ রান, রাজাদের লক্ষ্য ১৪৪
বাংলাদেশের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম যখন আউট হন, তখন বাংলাদেশ দলের স্কোর ১০১। এরপর সৌম্য সরকার যখন আউট হন তখন স্কোর ১০৮। ওভার তখন ১২ শেষ।
এরপর দলের ৯ জন ব্যাটার মিলে করেছেন ৩৫ রান। এর মধ্যে দুই অংকের ঘর ছুঁয়েছেন একজন, সাকিব আল হাসানসহ বাকিদের এক ডিজিট। এমন হতশ্রী ব্যাটিংয়ের পর বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৪৩।
এদিন তানজিদ তামিম ৫২, সৌম্য সরকার ৪১, তৌহিদ হৃদয় ১২ ছাড়া উল্লেখ করার মতো স্কোর কেউ করেননি।
জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে লুক জঙ্গি তিনটি, এনগারাভা, বেননেট দুইট করে এবং সিকান্দার রাজা ও মুজারাবানি একটি করে উইকেট নেন।
বেকায়দায় টাইগার শিবির
ইনিংস শুরুর দিকে তানজিদ তামিম ও সৌম্যের ব্যাটে ধারনা করা যাচ্ছিলো, আজ স্কোর বোর্ডে বড় কিছু হতে চলেছে। তবে আপাতত সেই আশায় গুড়েবালির পর বেশ বেকায়দায় পড়েছে টাইগার শিবির।
১১তম ওভারে জঙ্গির জোড়া আঘাতে সাজঘরে দুই ওপেনার তানজিদ তামিম ও সৌম্য সরকার। এরপর ব্যাট করতে আসা হৃদয়ও সুবিধা করতে পারলেন না। তবে আট বলের মোকাবেলায় একটি বাউন্ডারিতে করেছেন ১২ রান। ১৩ দশমিক চার ওভারে সিকান্দার রাজার বলে বেননেটের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
এরপর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে মাঠে আসেন সাকিব আল হাসান। এদিন তিনি যেন মাঠে এলেন আর ফিরলেন। ১৫তম ওভারের প্রথম বলে সেই বেননেটের বলে বোল্ড হন তিনি। ততক্ষণে তিন বল খেলে তোলেন মাত্র এক রান।
বর্তমানে ব্যাট করছেন জাকের আলী ও রিশাদ হোসেন। তবে তাদের ব্যাটও এদিন নিস্ফল। জাকের করেন ছয় এবং রিশাদ দুই। এর পর রানের খাতা না খুলেই সাজঘরে ফেরেন তাসকিন। ফিরছেন তানজিম সাকিবও।
১৮ দশমিক এক ওভারে আট উইকেট হারিয়ে শান্তবাহিনীর সংগ্রহ ১৩৪ রান।
বাংলাদেশ শিবিরে জোড়া আঘাত, ফিরলেন তামিম ও সৌম্য
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় নিশ্চিতের পর চতুর্থ ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিং করছে বাংলাদেশ। সিরিজের শুরু থেকেই উইলোতে রান পাচ্ছেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ফিফটির পর পরের দুই ম্যাচে ইনিংস অবশ্য বড় হয়নি।
শুক্রবার মিরপুরে সিরিজে দ্বিতীয় ফিফটির পরে ইনিংসটিও দীর্ঘ হলো না। ১১ দশমিক দুই ওভারে লুক জঙ্গির বলে মিড অফে উড়িয়ে মারতে গিয়ে তা লাগের ব্যাটের কানায়। ক্যাচটি লুফে নেন ক্যাম্ববেল।
সাজঘরে ফেরত যাবার আগে তানজিদ তামিম ৩৭ বলে ৫২ রানের একটি আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেন। এর মধ্যে একটি ছক্কা ও দুটি বাউন্ডারির মার ছিল।
তামিমের বিদায়ের পর ব্যাট করতে মাঠে মেনেছেন আরেক পিঞ্চ হিটার তৌহিদ হৃদয়।
অপরদিকে তামিমের বিদায়ের পর একই ওভারে আউট হন আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার। ১১ ওভারের শেষ বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন তিনি। এর আগে ৩৪ বলে দুই ছক্কা ও তিন বাউন্ডারিতে তিনি করেন ৪১ রান। সৌম্য সাজঘরে ফেরত যাবার পর ব্যাট করতে এসেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ১২ দশমিক তিন ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান।
তামিমের ফিফটি, ধীরে জ্বলে উঠছে সৌম্য
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় নিশ্চিতের পর চতুর্থ ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিং করছে বাংলাদেশ। সিরিজের শুরু থেকেই উইলোতে রান পাচ্ছেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ফিফটির পর পরের দুই ম্যাচে ইনিংস অবশ্য বড় হয়নি।
তবে শুক্রবার মিরপুরে জুটিতে নতুন ওপেনার সৌম্যকে পেয়ে শুরু থেকেই আক্রমন করে চলেছেন এই বামহাতি। রান তুলছেন প্রায় ১৫০ স্ট্রাইক রেটে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩৪ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ের সাহায্যে তুলেছেন ৫০ রান। সিরিজে এটি তামিমের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি।
অপরদিকে সিরিজে ডাক পাওয়া সৌম্য এদিন শুরু থেকেই অনেকটা ধীরস্থির। তবে সৌম্যের এই ধাঁচটা আক্রমনের আগের পূর্বাভাস, তার আগেও দেখা গেছে। তবে যেকোনো সময় জ্বলে ওঠার ক্ষমতা রাখেন এই বামহাতি ব্যাটার। প্রথম ৮/১০ বলে শুধু সিঙ্গেলে ওপর থাকালেও ইতিমধ্যে হাঁকিয়েছেন ইনিংসের প্রথম একটি বিশাল ছক্কা। এরপর অষ্টম ওভারের শেষ বলেও হাঁকিয়েছেন আরও একটি দৃষ্টি নন্দন ছক্কা।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ কোনো উইকেট না হারিয়ে ৯০ রান। সৌম্য ২৫ ও তামিম ৫২ রানে ব্যাট করছেন।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, তিন পরিবর্তন
তিন ম্যাচ জিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। ঢাকা পর্বের শেষ দুটি টি-টোয়েন্টি তাই প্রস্তুতিসম। এ অবস্থায় শুক্রবার সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে মাঠে নামলো বাংলাদেশ দল।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হলো দু’দল। ম্যাচটি শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টায়।
টাইগারদের লক্ষ্য এখন হোয়াইটওয়াশ। এই মিশনের ম্যাচে টস হেরেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে প্রথমে বোলিং নিয়েছে। অর্থাৎ নাজমুল হোসেন শান্তর দল ব্যাটিং করবে।
এই ম্যাচের একাদশে টাইগাররা দলে তিন পরিবর্তন এনেছে।
সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচই হয়েছিলো চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। যার সবকটিতেই জিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের দখলে নিয়েছে বাংলাদেশ। এবার সিরিজ ফিরেছে মিরপুরের শের-ই বাংলায়। এই ম্যাচের আগে টাইগারদের স্কোয়াডে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ফলে নিশ্চিতভাবেই যে একাদশে কয়েকটি পরিবর্তন আসছে সেটি ছিল অনুমেয়।
স্কোয়াডে নতুন করে যুক্ত হওয়া সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান ও সৌম্য সরকার এই ম্যাচের একাদশে ফিরেছেন।
তিন তারকা ক্রিকেটারকে সুযোগ দিতে গিয়ে বাদ পড়েছেন লম্বা সময় ধরে ব্যাটিংয়ে ধুঁকতে থাকা ওপেনার লিটন দাস, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
পরিবর্তন এসেছে জিম্বাবুয়ে একাদশেও।
বাংলাদেশ একাদশ: নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান, তাওহিদ হৃদয়, সাকিব আল হাসান, জাকের আলী (উইকেটকিপার), তানভির ইসলাম, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব ও মুস্তাফিজুর রহমান।
জিম্বাবুয়ে একাদশ: তাদিওয়ানাশে মারুমানি, জোনাথন ক্যাম্পবেল, ব্রায়ান বেনেট, সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), ক্লাইভ মাদান্দে, রায়ান বার্ল, লুক জঙ্গি, ব্লেসিং মুজারাবানি, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, রিচার্ড এনগারাভা ও ফারাজ আকরাম।