জোকোভিচকে স্তব্ধ করে অস্ট্রেলিয়ার ওপেন জিতে আলকারাজের ইতিহাস

মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচকে পরাজিত করে টেনিস ইতিহাসের পাতায় নতুন নাম লিখিয়েছেন কার্লোস আলকারাজ। ইতিহাসের কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে চারটি ভিন্ন গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের বিরল গৌরব অর্জন করলেন তিনি।

রোববার, রড লেভার অ্যারেনায় ২২ বছর বয়সী আলকারাজ প্রথম সেটে হেরেও ঘুরে দাঁড়ান এবং ২-৬, ৬-২, ৬-৩, ৭-৫ ব্যবধানে ২৪ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী জোকোভিচকে চমকে দেন। এই জয়ে তিনি ৩৮ বছর বয়সী জোকোভিচকে টেনিস ইতিহাসের একমাত্র ২৫ স্ল্যাম জয়ী খেলোয়াড় হবার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করেন।

বিশ্বের এক নম্বর এই তারকা পরে স্বীকার করেছেন, শিরোপার জন্য সার্ভিস করার সময় তার পা কাঁপছিল। তবে ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই তিনি আধিপত্য বিস্তার করেছেন এবং তিন ঘণ্টা দুই মিনিটের লড়াই শেষে বিজয়ীর হাসি হেসেছেন।

শীর্ষ বাছাই এই স্প্যানিয়ার্ডের ঝুলিতে এখন দুটি করে ফ্রেঞ্চ ওপেন, উইম্বলডন ও ইউএস ওপেনের সাথে যোগ হলো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ট্রফি। সেসাথে কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে সাতটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ডও এখন তার দখলে।

১০ বারের অস্ট্রেলিয়ান চ্যাম্পিয়ন জোকোভিচ শুরুটা করেছিলেন ঝড়ের গতিতে। তরুণ প্রতিপক্ষকে দুবার ব্রেক করে দ্রুত প্রথম সেটটি নিজের করে নেন। তবে দমে যাননি আলকারাজ। গতি, শক্তি ও কৌশলের নিপুণ প্রদর্শনীতে একই ব্যবধানে দ্বিতীয় সেটটি জিতে সমতায় ফেরেন তিনি।

ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যামের রেকর্ডে আলকারাজ তার আদর্শ ও স্বদেশী রাফায়েল নাদালকে ছাড়িয়ে গেছেন। গ্যালারিতে বসে নাদাল যখন এই দৃশ্য দেখছিলেন, তখন তার চেয়ে দুই বছর কম বয়সেই এই কীর্তি গড়লেন আলকারাজ। জোকোভিচের জন্য এটি ছিল মেলবোর্নের ফাইনালে প্রথম হার; এর আগে ১০ বার ফাইনাল খেলে প্রতিবারই জিতেছেন তিনি। তবে এবার হেরে, মার্গারেট কোর্টের ২৫টি গ্রান্ড স্লাম জয়ের মাইলফলক ছোঁয়ার স্বপ্নটি আপাতত অধরাই রয়ে গেল তার।

সেমিতে দুজনেই পাঁচ সেটের দীর্ঘ লড়াই লড়ে এসেছিলেন। আলকারাজ হারিয়েছেন আলেকজান্ডার জেভেরেভকে এবং জোকোভিচ হারিয়েছেস ইয়ানিক সিনারকে। শারীরিক ধকল কাটিয়ে তেজস্বিতা বজায় রাখাই ছিল ফাইনালে মূল চ্যালেঞ্জ। কিন্তু ম্যাচে তাদের মধ্যে ক্লান্তির কোনো ছাপ দেখা যায়নি।

ম্যাচের এক পর্যায়ে জোকোভিচ আগ্রাসী মেজাজে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে প্রথম সেটটি জিতে নিলেও আলকারাজ ফিরে আসেন রুদ্রমূর্তিতে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেটে আলকারাজের দাপটে জোকোভিচকে কিছুটা অসহায় দেখিয়েছে। চতুর্থ সেটে জোকোভিচ তার সর্বস্ব দিয়ে লড়াই চালিয়ে গেলেও আলকারাজের গতির কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়।

এই জয়ের ফলে আলকারাজ বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর স্থান ধরে রেখেছেন, সিনার রয়েছেন দুই নম্বরে এবং জোকোভিচ এক ধাপ এগিয়ে তিনে উঠে এসেছেন।

‘অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ই আমার কাছে সব কিছু’ 

হৃদয়ভাঙ্গা হারের পরেও জোকোভিচ মহানুভবতা দেখিয়েছেন। তিনি নেটের ওপাশে গিয়ে আলকারাজকে অভিনন্দন জানান। দুই টেনিস আইকনের এই হাসি ও পিঠ চাপড়ে দেয়া ছিল মূলত টেনিসের ব্যাটন হস্তান্তরের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। পরে আলকারাজ বলেন, আমি নিজেকে বলছিলাম, অন্তত সার্ভিসটা ঠিকমতো করো, তারপর দেখা যাক কী হয়। এই স্প্যানিশ তরুণ জানান, অস্ট্রেলিয়ায় এই অধরা জয়টি অর্জনের জন্য তিনি কঠোর পরিশ্রম করছিলেন।

সাতটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে আলকারাজ এখন জন ম্যাকেনরো এবং ম্যাটস উইল্যান্ডারের পাশে জায়গা করে নিয়েছেন। তবে নাদাল বা জোকোভিচের ২২ বা ২৪টি শিরোপার রেকর্ড ভাঙার কথা এখন ভাবছেন না তিনি। তিনি বলেন, আমি জানি প্রতিটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয় কতটা কঠিন। আমি শুধু প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চাই।

এদিকে জোকোভিচ তার ক্যারিয়ার নিয়ে সরাসরি কোনো ঘোষণা না দিলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী বছর তাকে মেলবোর্নে দেখা যাবে কি না তা নিশ্চিত নয়। তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, ২২ বছর ধরে আমি অস্ট্রেলিয়ায় আসছি। ঈশ্বরই জানেন কাল কী হবে, ৬ বা ১২ মাস পরের কথা তো বাদই দিলাম। এটি একটি দুর্দান্ত যাত্রা ছিল, আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি।