ভারত সফর বর্জন নিয়ে নতুন করে যা বললেন ক্রীড়া উপদেষ্টা

ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারত সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং খেলোয়াড়দের; এটি সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। খবর ক্রিকইনফো ইএসপিএন।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে নজরুল বলেন, বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ায় অনুশোচনার কোনো প্রশ্নই আসে না। বিসিবি এবং খেলোয়াড়রাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশের ক্রিকেটের নিরাপত্তা, জনগণের নিরাপত্তা এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে তারা এই ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

তবে উপদেষ্টার এই মন্তব্যকে তার আগের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত বা 'ইউ-টার্ন' হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, বিশ্বকাপ নিয়ে অচলাবস্থা চলার সময় তিনি বেশ কয়েকবার বলেছিলেন, দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ সরকারের এবং বিসিবি শুধু সরকারের আদেশ পালন করেছে।

এর আগে ৪ জানুয়ারি বিসিবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই আসিফ নজরুল জানিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে অনিচ্ছুক। আইপিএল ২০২৬ থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে সরিয়ে নিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) বিসিসিআই’র নির্দেশের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

আইসিসির সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনায় আসিফ নজরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন। এর পরপরই আইসিসি ঘোষণা করে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত হবে স্কটল্যান্ড।


চলতি সপ্তাহের শুরুতে আইসিসি ঘোষণা করেছে, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে কোনো শাস্তি দেয়া হবে না। একই সঙ্গে ২০২৮ সালে বাংলাদেশকে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের স্বত্বও দেওয়া হয়েছে। লাহোরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও আইসিসির মধ্যকার এক বৈঠকে এই সমঝোতা হয়, যেখানে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

২০২৮ সালে অতিরিক্ত একটি আইসিসি আসর আয়োজনের সুযোগ পাওয়ায় এই আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, আইসিসি জানিয়েছে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না এবং আন্তর্জাতিক আসর আয়োজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বিবেচনা করা হবে। এটি একটি চমৎকার অর্জন। আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে স্যালুট জানাই।