১৫ বলের ফিফটিতে ১৫তম জন্মদিন উদযাপন করলেন সূর্যবংশী

ভারতের জাঁকজমকপূর্ণ টি-টোয়েন্টি আসর- আইপিএলের মঞ্চে রাজস্থান রয়্যালসের ১৫ বছর বয়সী বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে ভারতীয় ক্রিকেটের পরবর্তী বড় ‘বিজ্ঞাপন’ ভাবা হচ্ছে। গত সোমবার চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) বিরুদ্ধে মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতরান হাঁকিয়ে নিজের ১৫তম জন্মদিনটিকে রাজকীয়ভাবে উদযাপন করলেন এই ওপেনার। বৈভবের এই বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে চেন্নাইকে ৮ উইকেটে পিষ্ট করেছে রাজস্থান।

গত বছর গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে ক্রিকেট বিশ্বে শোরগোল ফেলে দেন বৈভব। এবার চেন্নাইয়ের বোলারদের তুলোধোনা করে মাত্র ১৫ বলে নিজের মৌসুমের প্রথম ফিফটি তুলে নিলেন তিনি। ৮ ম্যাচের আইপিএল ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় পঞ্চাশোর্ধ্ব রান। আরেক ওপেনার যশস্বী জয়সওয়ালকে সাথে নিয়ে পাওয়ারপ্লে-তেই চেন্নাইয়ের বোলারদের নাভিশ্বাস তুলে ছাড়েন বৈভব। পাওয়ারপ্লে শেষে রাজস্থানের স্কোরবোর্ডে কোনো উইকেট না হারিয়েই জমা হয় ৭৪ রান।

১৭ বল খেলে ৫২ রান করে যখন বৈভব সাজঘরে ফিরছেন, ততক্ষণে তার নামের পাশে ৫টি ছক্কা ও ৪টি চারের মার। জয়সওয়ালের সাথে তার ৭৫ রানের মারমুখী জুটিই রাজস্থানের জয় নিশ্চিত করে দেয়। ১২৮ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১২.১ ওভারেই জয় ছিনিয়ে নেয় রাজস্থান।


অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী এই তরুণ তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের কৃতিত্ব দিয়েছেন রাজস্থানের কোচ কুমার সাঙ্গাকারাকে। ম্যাচ শেষে বৈভব বলেন, আমি শুরুতে রক্ষণাত্মক খেলার কথা ভাবছিলাম, কিন্তু পরিকল্পনা ছিল পাওয়ারপ্লে-তেই খেলা শেষ করে দেওয়া। কোচ আমাকে পরিস্থিতি বুঝে নিজের সহজাত আক্রমণাত্মক খেলা চালিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছেন।

বৈভবের ব্যাটিং তান্ডবের আগে রাজস্থানের বোলাররা চেন্নাইয়ের ব্যাটিং লাইনআপকে তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে দেয়। পাওয়ারপ্লে-তেই ৪১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা চেন্নাই ১৯.৪ ওভারে মাত্র ১২৭ রানে অলআউট হয়ে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার নান্দ্রে বার্গার ২৬ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন। এছাড়া জফরা আর্চার এবং রবীন্দ্র জাদেজাও শিকার করেন দুটি করে উইকেট।

আগামী শনিবার আহমেদাবাদে গুজরাট টাইটানসের মুখোমুখি হবে রাজস্থান। অন্যদিকে শুক্রবার পাঞ্জাব কিংসকে আতিথ্য দেবে চেন্নাই। তবে আপাতত পুরো আইপিএল বুঁদ হয়ে আছে ১৫ বছরের সেই কিশোরের ব্যাটের জাদুতে, যে কি না বড় বড় বোলারদের রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা