আলিস আল ইসলামের বলে কাট করে ২ রান নিয়ে ম্যাচ শেষ করলেন হাসমতউল্লাহ শহীদি। অথচ ৮৭ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের এই বড় জয়ের পরও আফগান ব্যাটার হাসমতউল্লাহ শহীদি কিংবা রহমত শাহর মুখে কোনো বাড়তি উছ্বাস দেখা গেল না। তাদের যেন শুধুমাত্র একটাই বার্তা, বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সহজ জয় এ আর নতুন কী!
শারজার মাঠে বাংলাদেশকে একপেশেভাবে হারিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছে গেল আফগানিস্তান। অন্যদিকে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে বিদায় মিলল লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে এমনিতেই ব্যাকফুটে ছিল বাংলাদেশ। ফাইনালে ওঠার সমীকরণ মেলাতে হলে আফগানদের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে জিততে হতো। আর সে জন্য প্রয়োজন ছিল বড় সংগ্রহের।
কিন্তু বড় রান তো দূরের কথা, টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নিজেদের চরম চেনা ‘ব্যাটিং ব্যর্থতা’র ইতিহাস পুনরায় লিখে মাত্র ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে ১৬১ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান ৩৫.৩ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। শুক্রবার ফাইনাল ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ের।
১৬০ রান বোর্ডের পর বাংলাদেশকে ফাইনালে যেতে হলে আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখতে হতো, যা বাস্তবতার নিরিখে ছিল একেবারেই অসম্ভব। রান তাড়া করতে নেমে আফগানরা ২৬ রানে রহমানউল্লাহ গুরবাজ (৬), ৩৯ রানে সেদিকউল্লাহ আতাল (৪) এবং ৯৫ রানে ইব্রাহিম জাদরানকে (৩৪) হারালেও জয় পেতে কোনো বেগ পেতে হয়নি। চার নম্বরে নেমে ৫টি চারে ৯০ বলে অপরাজিত ৬৭ রান করে মাঠ ছাড়েন রহমত শাহ। অধিনায়ক হাসমতউল্লাহ শহীদি ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ২টি এবং মোস্তাফিজুর রহমান ১টি উইকেট পান।
বাংলাদেশ দলের ইনিংসে পাওয়ার প্লেতেই ঘটে চরম বিপর্যয়। তানজিদ হাসান তামিম (১), সৌম্য সরকার (০), নাজমুল হোসেন শান্ত (১৫) এবং তাওহীদ হৃদয়, চারজনই বলের মেধা না বুঝে অফস্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে উপহার দেন নিজেদের উইকেট। মাত্র ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে কিছুটা আশা দেখান সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন। পঞ্চম উইকেটে দুজন যোগ করেন ৯৩ রান। সাইফ ৪১ রান করে আউট হলেও এক প্রান্ত ধরে রেখে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭০ রান (৯৬ বলে, ৫ চার ও ২ ছয়) করেন ইমন। এরপর রশিদ খানের দুর্দান্ত স্পিন তাণ্ডবে (৩১ রানে ৪ উইকেট) ১৬০ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।
দলের এমন লক্ষ্যহীন ও অপেশাদার ব্যাটিং দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটার ইমরুল কায়েস।
দল নির্বাচনে স্বজনপ্রীতি ও আবেগের ঊর্ধ্বে ওঠার আহ্বান জানিয়ে বিসিবিকে ধুয়ে দিয়ে তিনি লেখেন, ক্রিকেট বোর্ডের উচিত সম্পূর্ণ মেধা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সেরা একাদশ নির্বাচন করা। ক্রিকেট পুরো একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করে, তাই জাতীয় দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত বা স্বজনপ্রীতি কিংবা পছন্দের সুযোগ থাকার কোনো স্থান নেই। এখন সময় এসেছে মেধা, সততা এবং দেশের স্বার্থকে অন্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেয়ার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ১৬০ (সাইফ ৪১, ইমন ৭০, রাশিদ খান ৪/৩১) ও আফগানিস্তান ১৬১/৩, ৩৫.৩ ওভার (জাদরান ৩৪, রাহমত ৬৭, হাসমতউল্লাহ ৩৬)। ৭ উইকেটে জয়ী আফগানিস্তান। ম্যান অব দ্য মাচ: রাশিদ খান।