রাওয়ালপিন্ডিতে নিজের ক্যারিয়ারসেরা অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে পাকিস্তানকে এক রূপকথার জয় উপহার দিলেন তরুণ অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাজ। শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর এবার শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে ৮৭ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল স্বাগতিকরা। ব্যাটিংয়ে ঝোড়ো ফিফটির পর বাঁহাতি স্পিনে ৬ উইকেট ও একটি দৃষ্টিনন্দন রানআউট করে ম্যাচটি পুরোপুরি নিজের নামে লিখে নেন এই উদীয়মান অলরাউন্ডার।
ম্যাচে টসে জিতে শিশিরের সুবিধার কথা ভেবে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। প্রথম বলেই জো রুটকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ফখর জামান। সাইম আইয়ুব ও অধিনায়ক বাবর আজমও সুবিধা করতে পারেননি। ৮১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলের কাণ্ডারি হয়ে দাঁড়ান হাসান নওয়াজ ও আরাফাত মিনহাজ। দুজনের পঞ্চম উইকেটে যোগ হওয়া ৭৮ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। নওয়াজ ৭৪ বলে ৫টি ছক্কায় বুদ্ধিদীপ্ত ইনিংস খেলেন এবং ফিফটি পূর্ণ করেন।
এরপর ফাহিম আশরাফকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত গতিতে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন মিনহাজ। ব্যক্তিগত ফিফটি ছোঁয়ার পাশাপাশি ৪৯ বলে ৭২ রানের জুটি গড়ে দলকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান তারা। ইংল্যান্ড ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩০২ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করায় পাকিস্তান। ইংলিশদের হয়ে সনি বেকার ৩টি উইকেট শিকার করেন।
৩০৩ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সূচনাটা মন্দ ছিল না ইংল্যান্ডের। টম ব্যান্টন ও বেন ডাকেটের ব্যাটে ভর করে ১৫ ওভারেই ৯১ রান তুলে ফেলে সফরকারীরা। তবে ডাকেটকে আউট করে এই জুটি ভাঙেন হারিস রউফ। এরপরই শুরু হয় আরাফাত মিনহাজের ঐতিহাসিক স্পিন ঘূর্ণি। অর্ধশতক করা ব্যান্টনকে (৫৭) ফেরানোর পর অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককে চমৎকার টার্নে বোল্ড করেন তিনি। মাঝের ওভারে মিনহাজ ও সাইম আইয়ুবের আঁটসাঁট বোলিংয়ে ইংলিশদের রানের গতি একেবারেই থমকে যায়।
পরবর্তীতে জো রুটকে বোল্ড করেন নাসিম শাহ এবং স্যাম কারানকে সাজঘরে পাঠান রউফ। জয়ের জন্য শেষদিকে কঠিন সমীকরণের মুখে পড়ে ইংল্যান্ডের লোয়ার অর্ডার। তবে শেষভাগে মিনহাজের লেগস্টাম্প ও ড্রিফটের কাছে আত্মসমর্পণ করে বাকি ব্যাটাররা। উইল জ্যাকস ও অ্যাডিল রশিদকে পরপর ফিরিয়ে ওয়ানডেতে নিজের দ্বিতীয় ৫ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন মিনহাজ। শেষ পর্যন্ত সনি বেকার ও গাস অ্যাটকিনসনের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগে সরাসরি থ্রোয়ে রানআউট করে ইংল্যান্ডের ইনিংস ২১৫ রানেই গুটিয়ে দেন মিনহাজ।
৫৮ বলে ৫৯ রান করার পাশাপাশি মাত্র ৪০ রান দিয়ে ৬ উইকেট ও এক রানআউটের বিশ্বমানের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে পাকিস্তানের এই অবিস্মরণীয় জয়ের নায়ক নিঃসন্দেহে ১৯ বছর বয়সী আরাফাত মিনহাজ। এই জয়ে ট্রাই-সিরিজের পয়েন্ট টেবিলে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে গেল পাকিস্তান।
