ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল দারুণ এক ঝড় দিয়ে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ঝড় এসে থামলো এক অচেনা ও করুণ ধ্বংসস্তূপে! ত্রিদেশীয় সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শনী দেখিয়ে বাংলাদেশকে এক কথায় উড়িয়ে দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। স্বাগতিকরা ৯৯ রানে জিতে নিয়ে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ।
ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল দারুণ এক ঝড় দিয়ে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ঝড় এসে থামলো এক অচেনা ও করুণ ধ্বংসস্তূপে! ত্রিদেশীয় সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শনী দেখিয়ে বাংলাদেশকে এক কথায় উড়িয়ে দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। স্বাগতিকরা ৯৯ রানে জিতে নিয়েছে আসরের প্রথম ম্যাচ।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য ব্যাট হাতে খড়্গহস্ত ছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভার থেকেই তানজিদ হাসান তামিম যেন ‘গানস ব্লেজিং’ মেজাজে মাঠে নামেন। তাঁর বুনো ও মারমুখী ব্যাটিংয়ে শুরুতেই রীতিমতো ভড়কে যায় জিম্বাবুয়ের পেসাররা।
পাওয়ার প্লের প্রতিটি ওভারেই জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকান তানজিদ। মনে হচ্ছিল টাইগাররা আজ এক বিশাল পাহাড়সম লক্ষ্য দাঁড় করাতে চলেছে। তবে পাওয়ার প্লের একেবারে শেষ বলে সব উল্টে যায়! ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ৪৬ রানে সাজঘরে ফেরেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা তানজিদ।
আর তাতেই ঘটে ছন্দপতন। ওই ধাক্কা সামলে জিম্বাবুইয়ান পেসাররা দুর্দান্তভাবে খেলায় ফিরে আসে। পাওয়ার প্লের ভেতরেই তারা দুই ওপেনারকে সাজঘরে ফিরিয়ে টাইগার শিবিরে প্রথম বড় ধাক্কা দেয়। এরপর দ্রুত বিদায় নেন টপঅর্ডার ব্যাটার শান্তও। উইকেটের ফায়দা তুলে নিয়ে স্পিনার সিকান্দার রাজাও কম যাননি; তাঁর একটি ধারালো ও ঘূর্ণি ডেলিভারিতে একেবারে প্লাম্ব এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়েন তাওহিদ হৃদয়।
এরপর থেকেই বাংলাদেশের ইনিংসের মূল পতনের শুরু। ডট বলের পাহাড় জমতে থাকে, আর স্ট্রেইট রোটেট বা সিঙ্গেল-ডাবল নিয়ে রান সচল রাখার অক্ষমতা ফের একবার জলদি প্রমাণের মুখে পড়ে। মেজাজ ও উইকেটে থিতু হওয়ার ধৈর্য হারিয়ে ব্যাটাররা বারবার ভুল লাইনে ব্যাট চালাতে গিয়ে নিজেদের উইকেট বিলিয়ে আসেন।
বড় কোনো জুটি তো দূরের কথা, উইকেটে ন্যূনতম প্রতিরোধ গড়ার মতো মানসিকতাই যেন ছিল না টাইগার ব্যাটারদের। শেষপ্রান্তে এসে সাইফ একপ্রান্ত আগলে লড়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি কেবল ব্যক্তিগত ২৬ রানে থামেন। ইনিংসের শেষ দিকে রিশাদের ব্যাট থেকে কিছু চার-ছক্কার ঝলকানি দেখা গেলেও ততক্ষণে ম্যাচ জিম্বাবুয়ের মুঠোয় পুরোপুরি চলে গেছে।
বল হাতে পুরো ম্যাচে জিম্বাবুইয়ান বোলাররা ছিলেন দুর্দান্ত ও নিখুঁত। চার উইকেট শিকার করে বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেন ইভানস। এছাড়া অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ও মাসাকাদজা দুটি করে এবং মুজারাবানি ও নিয়ামহুরি একটি করে উইকেট শিকার করে টাইগার ব্যাটিং লাইনআপের কোমর ভেঙে দেন। শুরুতেই কয়েক ওভারের পরীক্ষা বাদ দিলে বাকি সময়টা ছিল পুরোদস্তুর জিম্বাবুয়ের একচ্ছত্র ও পৈশাচিক বোলিং ডমিনেশন!
সংক্ষিপ্ত স্কোর: জিম্বাবুয়ে ২৭১/৮ (টেইলর ৮১, আরভিন ৯, তাসকিন ৩/৪৪) এবং বাংলাদেশ ১৭২, ৩৩.৪ ওভার (তানজিদ ৪৬, সাইফ ২৬, রিশাদ ২৩, ব্রাড ইভান্স ৪/৪৫)। জিম্বাবুয়ে ৯৯ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ক্রেইগ আরভিন (জিম্বাবুয়ে)
