ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের ফ্যান বয়, সময়ের সাথে গায়ে জড়ালেন সেই সাদা জার্সিটা। সুযোগ পেয়েই দলকে জিতিয়ে হিরো বনে গেলেন হোসেলু। ম্যাচের ৮৭ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে বায়ার্ন মিউনিখ। হোসেলুর তিন মিনিটের ঝড়ে বায়ার্নকে উড়িয়ে ফাইনালে লস ব্লাঙ্কোস। ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল লিখলো কামব্যাকের নয়া এপিসোড।
“ক্যান ইউ প্রভিডে মে আ গুড লিংক তো ওয়াচ রিয়েল মাদ্রিদ গেম?” -২০১২ সালে সোশাল মিডিয়ায় এভাবেই রিয়াল মাদ্রিদের খেলা দেখার লিঙ্ক চেয়েছিলেন হোসেলু।
ঠিক ১২ বছর পর রিয়ালের জয়ের নায়ক সেই ফ্যানবয় হোসে লুইস মাতো সানমার্তিন। স্বপ্নে বাঁচা বোধহয় একেই বলে।
হৃদয় দিয়ে খেলতে হবে এই কথাটাই হয়তো তাতিয়ে দিয়েছে হোসেলুকে। রিয়ালের জন্য কম হৃদয়তো পোড়েনি এস্পানিওলের এই ফুটবলারের। ২০২২ সালে প্যারিস গিয়েছিলেন রিয়ালকেই সাপোর্ট করতে। সে বছরই দল রেলিগেটেড হয়ে গেলে মাত্র দেড় মিলিয়ন ইউরোতে লোনে রিয়ালে যোগ দেন এই স্ট্রাইকার। স্বপ্ন সত্যির ছোঁয়া পেতেই কী রাতটাই না উপহার দিলো হোসেলু।
ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বায়ার্নের বিপক্ষে পিছিয়ে খোদ রিয়াল মাদ্রিদ। একের পর এক আক্রমণেও মিলছে না গোল। বায়ার্ন হয়তো ভুলেই গেছে অপ্রিয় সত্যটা। ‘নাইনটি মিনিটস ইন দি বের্নাবেউ ইস আ ভেরি লং টাইম”। ৪০ বছর পরও জুয়ানিতোর এই কথাটা আজও বয়ে বেড়ায় রিয়ালের পরিচয়।
ম্যাচের ৮১ মিনিট... ভালভার্দেকে তুলে ইম্প্যাক্ট সাব হিসেবে নামালেন হোসেলুকে। নার্ভে আইস নিয়ে মাঠে নামলেন এই স্প্যানিয়ার্ড। দলকে ম্যাচে ফেরাতে সময় নিলেন মোটে ৭ মিনিট। ৮৭ মিনিটে প্রথম গোল, ৯১ মিনিটে করলেন জোড়া গোল। সুপার সাব হয়ে নেমেই রিয়ালের ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেন এই ফরোয়ার্ড।
শেষ সাত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে হোসেলু স্কোরশিটে নাম তুলেছেন পাঁচবার। এই হোসেলুকে দেখে হয়তে স্টোক সিটি আর নিউক্যাসল নিজেদের হাত কামড়াচ্ছে। কি মিসটাই না করলো তারা। বলে না বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে, হোসেলুও তেমনি ইংল্যান্ড নয় তার আসল সৌন্দর্য স্পেনে।
রেমোনতাদাস... স্প্যানিশ এই শব্দটার অর্থ প্রত্যাবর্তন। বায়ার্নকে হারিয়ে কামব্যাক সিরিজের আরো একটা এপিসোড রিলিজ করলো রিয়াল মাদ্রিদ। এবারের চিত্রনাট্যে হোসেলু-বার্নাব্যু এই ক্যামিস্ট্রিটা নিশ্চিতভাবেই বরণ করে নিলো অমরত্ব।