আনহেল ডি মারিয়া! আর্জেন্টাইন ফুটবলের এই উইঙ্গারের ক্যারিয়ার এমন একটা সময়জুড়ে বিস্তৃত, যেখানে লিওনেল মেসি আর রোনালদোর মতো মহাতারকাদের দ্যুতিতে ম্লান অন্য সব তারকারা। এর মধ্যেই নিজের প্রতিভায় বিশ্ব ফুটবলে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন ৩৬ বছরের তুখোড় এই ফুটবলার।
যেই দলে মেসি থাকে, সেই দলে আর কোন খেলোয়াড়কে নিয়ে তেমন একটা চর্চা হয় না। কিন্তু জাতীয় দলে মেসির সব সফলতার পেছনেই দুর্দান্ত ভূমিকা রেখেছেন ডি মারিয়া। লাতিন অঞ্চলের বিশ্বকাপ আসর হিসাবে বিবেচিত কোপা আমেরিকার এবারের ফাইনালে তিনিই ম্যাচ সেরা তারকা।
কোপা চ্যাম্পিয়ন হয়ে এবার অবসরের পথে হাঁটালেন আর্জেন্টাইন তারকা ডি মারিয়া। কাতারে অনুষ্ঠিত গেল বিশ্বকাপ জেতার পরই তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোপা আমেরিকার পরই তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেবেন। সেটাই করলেন। তাই বিদায়ের সময় আর আবেগটি ধরে রাখতে পারেননি।
নীল-সাদা জার্সিতে কেরিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন আনহেল ডি মারিয়া। ১১৭ মিনিটে তিনি যখন মাঠ ছাড়েন, ততক্ষণে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেছে ১-০ ব্যবধানে। নেপথ্যে ১১২ মিনিটে লাওতারো মার্টিনেজের গোল। কাঁদতে কাঁদতে মাঠ থেকে বের হন ডি মারিয়া।
আবেগপ্রবণ হলেও, এমন স্বপ্নময় এক বিদায়ের কথাও ভেবেছিলেন মারিয়া। তার নিজের কথা, আমি স্বপ্ন দেখতাম, তাই বলেছিলাম এটাই আসার মেষ কোপা আমেরিকা। আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম যে আমি ফাইনালে উঠব, আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম যে আমি এটি জিতব, আমি এভাবেই অবসর নেব।
তাই ফাইনালের আগে সতীর্থদের থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন। তার হাতে তুলে দেয়া হয় বিশেষ জার্সি। এরপর আর্জেন্টিনার হয়ে প্রায় প্রতিটি ফাইনালের মতো দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন তিনি। চোটের কারণে মেসি মাঠ ছাড়ার পর আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে সামনে থেকে তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছেন।
গোল না পেলেও ফেরেননি খালি হাতি। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষটা রাঙালেন কোপার শিরোপা জিতে। কলম্বিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে আরও একবার কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনা। আগের আসরের ফাইনালেও তার যাদুতেই প্রথমবার কোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন মেসি।
আর্জেন্টিনার ফুটবল দলে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ হলেন লিওনেল মেসি ও আনহেল ডি মারিয়া। ২০০৮ সালের অলিম্পিক আসর থেকে দুই তারকা একসঙ্গেই খেলছেন। তবে জাতীয় স্তরে দুই তারকার সাাফল্য সেভাবে ছিলো না। কিন্তু দুই তারকার কেরিয়ারের শেষের দিকে ত্রিমুকুট জিতলেন।
ডি মারিয়া বলেন, এটা দেখতে খুব সহজ লাগছে, কিন্তু এটা কঠিন। আমি জানি কারণ আমি জয়ের বিপরীত দিকে ছিলাম শেষ ১০-১১ বছর। লড়ছিলাম সাফল্যের জন্য। ফাইনালে গিয়ে জেতা সহজ নয়। এখন সেটা হচ্ছে। একটা সময় পর আমাদের সাফল্য আসার ছিল এবং আমি খুশি যে আমি এটার অংশ হতে পেরেছি। আমাদের এটা প্রাপ্য ছিল, কিন্তু আমরা লড়াই করা থামাইনি।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে অনেক স্মৃতি ডি মারিয়ার। আর্জেন্টিনার প্রতিটি শিরোপা জয়ে তার ছিলো অসামান্য অবদান। এই দীর্ঘ সময়ে আর্জেন্টিনার হয়ে ১৪৫টি ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ৩১টি। এরমধ্যে তার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে তিনটি গোল- ২০২১ সালে কোপার ফাইনালে তার একমাত্র গোলে শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। এরপর ২০২২ সালে লা ফিনালিসিমা আর ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালের গোল।