রোমাঞ্চকর এক এল ক্লাসিকো ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ২০২৬ সালের স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা জিতে নিয়েছে বার্সেলোনা।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে সৌদি আরবের কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনহার জোড়া গোল ছিল বার্সার জয়ের মূল চালিকাশক্তি। এই জয়ের মাধ্যমে বার্সেলোনা টানা দ্বিতীয়বারের মতো সুপার কাপ ঘরে তুললো এবং মোট ১৬টি শিরোপা জিতে রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করলো। রিয়াল মাদ্রিদের অর্জন এখনও ১৩টি।
ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সেলোনা বল দখলে এগিয়ে ছিলো। ৩৬তম মিনিটে রাফিনহা দলকে এগিয়ে দেন—ধৈর্যশীল আক্রমণের পর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচ হয়ে ওঠে একদম উন্মাদনাময়!
৪৫+২ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দারুণ এক গোলে রিয়ালকে সমতায় ফেরান। মাত্র দুই মিনিট পরই ৪৫+৪ মিনিটে রবার্ট লেভানডোভস্কি দ্রুতগতির দলীয় আক্রমণ থেকে ক্লিনিক্যাল শটে বার্সাকে আবার এগিয়ে দেন।
এরপরই ৪৫+৬ মিনিটে তরুণ গনজালো গার্সিয়া রিবাউন্ড থেকে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান।
বিরতিতে যাওয়ার আগেই চার গোল! দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনা আবারও দাপট দেখায়। ৭৩তম মিনিটে রাফিনহা আবারও গোল করেন—বক্সের বাইরে থেকে তার ডান পায়ের শট রিয়ালের ডিফেন্ডার রাউল আসেনসিওর গায়ে লেগে দিক বদলে জালে জড়ায়। এই গোলই শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে।
শেষদিকে রোমাঞ্চ আরও বাড়ে। যোগ করা সময়ে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং লাল কার্ড দেখে বার্সা ১০ জনে পরিণত হয়। রিয়ালের সাবস্টিটিউট কিলিয়ান এমবাপ্পে মাঠে নামেন, কয়েকটি কর্নার ও সুযোগ তৈরি হয়—কিন্তু বার্সার ডিফেন্স দৃঢ়তার সঙ্গে সামলায়। শেষ বাঁশি বাজতেই বার্সেলোনা খেলোয়াড়রা উল্লাসে মেতে ওঠেন।
রাফিনহা ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন। হান্সি ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনা রিয়ালের বিপক্ষে ফাইনালে অপরাজিত থাকলো। এই জয় ২০২৫-২৬ মৌসুমের প্রথম শিরোপা এবং লা লিগায় শীর্ষে থাকা বার্সার জন্য বড় প্রেরণা।
বার্সেলোনার কোচ হানসি ফ্লিক বলেন, আমরা আমাদের স্টাইলে খেলেছি, রাফিনিয়ার মানসিকতা অবিশ্বাস্য। দলের প্রতি গর্বিত।
রিয়াল কোচ জাবি আলোনসো বলেন, ম্যাচটা সমান-সমান ছিলো, হারটা ব্যথা দেয়। তবে এটি সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ ট্রফি। আমরা লড়াই করেছি, এখন পরবর্তী ম্যাচের দিকে তাকাতে হবে।