ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের ফুটবলে এ যেন এক অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক ভূমিকম্প! বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফন্তে। কিন্তু দল ঘোষণার পরপরই পুরো স্পেনে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে।
কারণ, ১৯৫০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের মতো মেগা আসরে রিয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড় ছাড়াই মাঠে নামতে যাচ্ছে লা রোজারা! সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর কোনো তারকাকে ছাড়াই সোমবার স্পেনের এই বিশ্বকাপ স্কোয়াড চূড়ান্ত করা হয়েছে।

রিয়াল মাদ্রিদের রক্ষণভাগের তরুণ তারকা ডিন হাইসেন চোটের কারণে শেষ মুহূর্তে দল থেকে ছিটকে গেছেন এবং অভিজ্ঞ দানি কারভাহালও ইনজুরিতে জর্জরিত এক মৌসুম পার করায় কোচের গুডবুক থেকে বাদ পড়েছেন। তবে রিয়াল মাদ্রিদের কেউ না থাকলেও বার্সেলোনা ও প্রিমিয়ার লিগের তারকাদের নিয়ে এক বিস্ফোরক দল সাজিয়েছেন ফন্তে।
চোট কাটিয়ে সদ্য মাঠে ফেরা আর্সেনালের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো যেমন দলে জায়গা পেয়েছেন, তেমনি চোটের আশঙ্কার মাঝেই দলে রাখা হয়েছে বার্সার বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালকে।
ইউরো ২০২৪ জয়ের দুই প্রধান নায়ক, বার্সেলোনার ইয়ামাল এবং বিলবাওয়ের নিকো উইলিয়ামস। দুজনেই ফিটনেস সমস্যায় ভুগলেও ফন্তে তাঁদের ওপর ভরসা রেখেছেন। বিশেষ করে ১৮ বছরের ইয়ামাল গত এপ্রিলের শেষ দিক থেকে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে বার্সার হয়ে মাঠের বাইরে আছেন।

বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচগুলোতে তিনি খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে স্প্যানিশ মিডিয়াতেই জোর সন্দেহ রয়েছে। একইভাবে নিকো উইলিয়ামসের মৌসুমটাও কেটেছে চোটের চোরাবালিতে।
তবে এই দুই হ্যামস্ট্রিং তারকাকে নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন দে লা ফন্তে। সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আমরা একদম শান্ত আছি। কোনো বড় অঘটন না ঘটলে প্রথম ম্যাচ থেকেই আমরা সবাইকে শতভাগ ফিট পাব। আমরা ক্লাবগুলোর মেডিকেল টিমের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। আমি নিশ্চিত করতে চাই, সবাই শীর্ষ ফর্মে থেকেই মাঠে নামবে এবং দর্শকরা খেলা উপভোগ করবেন।
দলে রিয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড় না থাকা নিয়ে যখন ফুটবল পাড়ায় সমালোচনার ঝড় উঠছে, তখন সেই বিতর্ক ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন মাস্টারমাইন্ড ফন্তে।
ক্লাব পক্ষপাতের অভিযোগের জবাবে তিনি কড়া সুরে বলেন, আমি স্পেনের ম্যানেজার, কোনো খেলোয়াড় কোন ক্লাব থেকে এল তা দেখার দায়িত্ব আমার নয়। তারা জাতীয় দলের খেলোয়াড়। একজন সমর্থকের মনে যে স্থানীয় ক্লাবের অন্ধত্ব বা পক্ষপাত থাকে, আমার তা নেই। আমি শুধু চাই এই ছেলেরা যেন জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্ববোধ করে।

ফন্তের দলে এবার স্পষ্ট আধিপত্য বার্সেলোনার। ইয়ামাল ছাড়াও কাতালান ক্লাবটি থেকে ডাক পেয়েছেন জোয়ান গার্সিয়া, পাউ কুবারসি, এরিক গার্সিয়া, গাভি, পেদ্রি, দানি ওলমো এবং ফেরান তোরেস। অন্যদিকে প্রিমিয়ার লিগ থেকে এসেছেন ৭ জন তারকা। যার মধ্যে আর্সেনাল থেকেই আছেন তিনজন, গোলরক্ষক ডেভিড রায়া, মার্টিন জুবিমেন্ডি ও মিকেল মেরিনো। আর মাঝমাঠে স্পেনের প্রধান সেনাপতি হিসেবে থাকছেন ম্যানচেস্টার সিটির রদ্রি।
দুই বছর আগে জার্মানিতে ইউরো কাপ জয়ের আত্মবিশ্বাস সঙ্গে নিয়ে উত্তর আমেরিকায় পা রাখবে স্পেন। তবে রিয়াল মাদ্রিদবিহীন এই দল নিয়ে ফন্তে বিশ্বমঞ্চে কতটা ‘প্যাশন’ দেখাতে পারেন, তা দেখতে ফুটবলপ্রেমীদের তর সইছে না।
স্পেনের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: উনাই সিমন, ডেভিড রায়া, জোয়ান গার্সিয়া।
রক্ষণভাগ: মার্কোস ইয়োরেন্তে, মার্ক পুবিল, পেড্রো পোরো, আইমেরিক লাপোর্তে, এরিক গার্সিয়া, পাউ কুবারসি, মার্ক কুকুরেয়া, আলেহান্দ্রো গ্রিমাল্দো।
মধ্যভাগ: রদ্রি, মার্টিন জুবিমেন্ডি, মিকেল মেরিনো, পেদ্রি, গাভি, ফ্যাবিয়ান রুইজ, অ্যালেক্স বায়েনা।
আক্রমণভাগ: ইয়েরেমি পিনো, ভিক্টর মুনোজ, মিকেল ওয়ারজাবাল, ফেরান তোরেস, লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো, নিকো উইলিয়ামস, বোর্হা ইগলেসিয়াস।
